পাবনার বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি চারা পেঁয়াজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে পেঁয়াজে। কিন্তু তাতে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তাদের অভিযোগ, বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তাতে ন্যায্যমূল্য তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না।
সরেজমিনে পাবনার সুজানগর, আতাইকুলা, বনগ্রাম হাট ঘুরে দেখা যায়, নিজেদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে হাটে বিক্রি করতে এনেছেন চাষিরা। হাটের চারদিকে পেঁয়াজের ছড়াছড়ি। পাইকার ব্যাপারীদের হাঁকডাকে বাজার সরগরম। তবে, ব্যাপক সরবরাহে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ সামনে নিয়ে বসে আছেন বিষণœ মনে। দরদামের হাঁকাহাঁকিতেও নেই খুব বেশি আগ্রহ।
কৃষকরা জানান, গুণগত মানে সবচেয়ে ভালো পেঁয়াজ প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না তাদের।
উত্তরবঙ্গের মধ্যে পেঁয়াজের ভা-ার বলে পরিচিত সুজানগর উপজেলা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর এ জেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজের আবাদ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক সময়ে সার বীজ দিতে পারায় সাধারণ জাতের ক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ এবং হাইব্রিড জাতের চারা থেকে ৮০-৯০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ এবার ঘরে তুলতে পারছে কৃষক। কিন্তু সরবরাহ বেশি থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক।
সুজানগরের চরদুলাই গ্রামের কৃষক আবদুর রউফ বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো ছিল, প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ মণ পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। সার, বীজ, তেলের দাম বাড়ায় প্রতি মণে কমপক্ষে ১০০০ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মণ পেঁয়াজ কমপক্ষে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে, কৃষক লাভবান হবে। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে খরচই উঠছে না।’
সাঁথিয়ার বনগ্রামের কৃষক আবদুস সামাদ প্রামাণিক বলেন, ‘সরকার কৃষকের প্রতি সদয় না হলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। কিন্তু এখন লাভ তো দূরের কথা, পথে বসার অবস্থা। অন্তত পেঁয়াজ উত্তোলনের তিন মাস বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ রাখলে কৃষক সর্বস্বান্ত হওয়া থেকে বাঁচত।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ হয় পাবনা থেকে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মাঠের পরিস্থিতি বলছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উৎপাদন বেশি হবে। উত্তোলন মৌসুমে বকেয়া পরিশোধের চাপ থাকায় একসঙ্গে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। ফলে দাম কম পান। কিছুদিন পর দাম একটু বাড়বে। আমরা জেলায় সরকারি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরির প্রস্তাবনা দিয়েছি। সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে কৃষকের হাতে পেঁয়াজ থাকবে, ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
