তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও চেরনিহিভ শহরে অস্ত্রবিরতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু চেরনিহিভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ওই এলাকায় রাশিয়ার হামলার তীব্রতা কমেনি। গভর্নর ভিয়াচেসøাভ চাউস এক টেলিগ্রাম বার্তায় রুশ প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন। চেরনিহিভ অঞ্চলে রাশিয়া রাতভর বোমাবর্ষণ করেছে দাবি করে তিনি লেখেন, ‘আমরা কি এতে (রুশ প্রতিশ্রুতি) বিশ্বাস রাখব? অবশ্যই না।’ মঙ্গলবার রাশিয়া জানায় চেরনিহিভ এবং রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলে অভিযানের তীব্রতা কমানো হবে। তবে গতকাল বুধবার প্রথম প্রহরে কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন শোনা যায়।
কিয়েভের ডেপুটি মেয়র মাইকোলা পোভোরোজনিক জানিয়েছেন, রাজধানীতে রাতভর বোমাবর্ষণ হয়নি, কিন্তু আশপাশের এলাকায় লড়াইয়ের বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। তাদের ধারণা, পূর্বাঞ্চলে মনোনিবেশ করতেই এসব সেনা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সান্ডার ফোমিন জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে মস্কো ধারাবাহিকভাবে সামরিক কর্মকাণ্ড কমাবে।
মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিরা। ইউক্রেন নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় তারা। রুশ আগ্রাসনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যবহারিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামরিক কর্মকাণ্ড কমানোর রুশ প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয়রা নির্বোধ মানুষ নয়।’ তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার প্রাথমিক ইঙ্গিত ইতিবাচক। সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে অন্য দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘কোনো পদক্ষেপ দেখার আগে আমি এর কোনো কিছুই পড়ে দেখব না।’ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালির নেতারাও জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাখা পাহারা এখনই প্রত্যাহার করা হবে না।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তাদের আলোচনা গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হলেও ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় এখন পর্যন্ত আসেনি বলে মনে করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন। বুধবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি ও মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পেসকভ বলেন, ‘এটা বেশ ইতিবাচক যে, অবশেষে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াকে সুনির্দিষ্ট করছেন এবং লিখিত আকারে সেগুলো আমাদের কাছে সরবরাহ করেছেন। তবে উভয়পক্ষের আলোচনার এতদূর অগ্রগতি হয়নি যে, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার মতো যুগান্তকারী কোনো পদক্ষেপ এখনই আমরা নিতে পারব। এজন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে, অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে এখনো।’
এদিকে দনেৎস্ক অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী রুশপন্থি এক নেতা জানিয়েছেন, একবার পুরো দনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে অঞ্চলটি রাশিয়ায় যোগদানের কথা বিবেচনা করতে পারে। দনেৎস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ বর্তমানে ইউক্রেনের এবং বাকি অংশ রুশপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদ্রোহী নেতা ডেনিস পুশিলিনকে উদ্ধৃত করে সেখানকার একটি আউটলেট জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বে অবস্থিত এই অঞ্চলটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর রাশিয়ায় যোগদানের কথা বিবেচনা করতে পারে দনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক।
মঙ্গলবার দনেৎস্ক বার্তা সংস্থাকে অঞ্চলটির বিদ্রোহী নেতা ডেনিস পুশিলিন বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকেই রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগদানের জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা রয়েছে। তবে এখন আমাদের মূল কাজ হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক সীমানায় পৌঁছানো। এরপর আমরা এই (রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার) বিষয়টি নির্ধারণ করব।’ দিন দুয়েক আগে মস্কো-সমর্থিত পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অন্য অঞ্চল লুহানস্কের নেতা রাশিয়ায় যোগদানের বিষয়ে গণভোট হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। এর দুই দিনের মাথায় এই মন্তব্য করলেন পার্শ্ববর্তী দনেৎস্ক অঞ্চলের বিদ্রোহী নেতা।
