হাবল টেলিস্কোপের চাইতে ঢের শক্তিশালী, আরও আধুনিক যন্ত্রে সজ্জিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ নেমে পড়েছে মহাকাশে। প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের টেলিস্কোপটির ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে উড়ে আসা যেকোনো জিনিসকে সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। এক বছরের কিছুটা বেশি সময় আগে মহাকাশে পাঠানো নতুন টেলিস্কোপটি ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছবিও পাঠিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, এতদিন হাবল টেলিস্কোপে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে বিষয়গুলো ধরা পড়েনি সেসব তথ্যই দেবে জেমস ওয়েব। উত্তরসূরির কাছে অবস্থান হারানোর এমন শঙ্কার মধ্যেই ভেলকি দেখাল ১৯৯০ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হাবল টেলিস্কোপ। ২ হাজার ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি নক্ষত্র ধরা পড়ল হাবলের লেন্সে!
প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর প্রথম যে নক্ষত্রগুলোর জন্ম হয়েছিল তাদেরই একটি এই সদ্য আবিষ্কৃত ইয়ারেন্ডেল। অ্যাঙ্গলো স্যাক্সন ভাষায় যার অর্থ ভোরের তারা। অবশ্য নক্ষত্রটির যে আলো হাবলের লেন্সবন্দি হয়েছে তা আসতে সময় লেগেছে ১ হাজার ২৯০ কোটি বছর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের প্রাথমিক সময় সম্পর্কিত গবেষণায় সহায়তা করতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইয়ারেন্ডেলের জন্ম হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের পর ঘন জমাট অন্ধকার ফুঁড়ে ব্রহ্মাণ্ডে যখন সবে ভোরের আলো ফুটছে তখন। ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পর থেকে সভ্যতা এখনো পর্যন্ত যে নক্ষত্রগুলোর হদিস পেয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন আর এই সৌরমণ্ডল থেকে সবচেয়ে দূরে রয়েছে এই ইয়ারেন্ডেল।
বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্রায়ান ওয়েলশ এটিকে ‘সানরাইজ আর্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাধারণত এই দূরত্বের ছায়াপথগুলো ছোট ছোট দাগের মতো করে দেখা যায়। ছায়াপথের লাখ লাখ নক্ষত্রের আলো একসঙ্গে চলে আসার ফলে এমন হয়। নতুন এই নক্ষত্রের ছায়াপথটিকে আমরা মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিবর্ধিত ও বিকৃত অবস্থায় দেখেছি। আমরা যার নাম দিয়েছি সানরাইজ আর্ক।’
ডেনমার্কের কোপেনহেগেন কসমিক ডন সেন্টারের ভিক্টোরিয়া স্ট্রেইট বলেন, এই উচ্চ-রেজ্যুলেশন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা প্রথম দিককার ছায়াপথগুলোর গঠন সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।
সিএনএন জানাচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে হাবলের ২০১৮ সালের দূরবর্তী নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের রেকর্ড ভেঙে গেল।
