থেমে গেল মৌলবাদবিরোধী দরাজ কণ্ঠ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২২, ০২:৫২ এএম

দরাজ কণ্ঠে আর আবৃত্তি শোনাবেন না তিনি। মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি আর চোখে পড়বে না। প্রায় চার মাস জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন আবৃত্তিশিল্পী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। 

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল হাসান আরিফকে। শরীরে অক্সিজেন জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন হাসান আরিফ। গত সপ্তাহ থেকে অবস্থার আরও অবনতি হয়। শুক্রবার দুপুরে সব শেষ হয়ে গেল। হাসান আরিফ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। বিকেলে হাসপাতালেই মরদেহের গোসল করানো হয়েছে। রাতে হিমঘরে রাখা হবে মরদেহ।’

হাসান আরিফ মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন বলে জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শনিবার বেলা ৩টায় মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এর আগে সকাল ৯টায় কফিন ধানমণ্ডির বাসায় নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে মরদেহ। শহীদ মিনার থেকে তার কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে আরেক দফা জানাজা হবে। পরে মরদেহ নেওয়া হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

হাসান আরিফের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ অনেকে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হাসান আরিফের চলে যাওয়া বাংলা আবৃত্তি জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘হাসান আরিফের মৃত্যুতে দেশ আবৃত্তি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলোতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।’

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, পথনাটক পরিষদ, গ্রাম থিয়েটার, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’, ঢাকা থিয়েটার, নাট্যদল বটতলা, কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, অনুস্বর, সাহিত্য একাডেমি-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

১৯৬৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্ম হাসান আরিফের। আবৃত্তিচর্চায় যুক্ত হন সত্তরের দশকের শেষ দিকে। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দেশে সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলোতে হাসান আরিফ ছিলেন সক্রিয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত