বছর ঘুরে মুমিনের দুয়ারে হাজির পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে গতকাল পশ্চিম আকাশে উদিত হয়েছে ১৪৪৩ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ। পবিত্র এই মাসকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা মুসলিম উম্মাহ। চন্দ্রবর্ষের সেরা মাস রমজান। কারণ এই মাসে মহান প্রভু অফুরন্ত রহমত ও শান্তির বারিধারা বর্ষণ করেন। তার নেয়ামতের বিশাল ভান্ডার খুলে দেন। অগণিত বান্দাকে মাফ করে দেন। মুক্তির সুসংবাদ পৌঁছে দেন মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে। সিয়াম সাধনা মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে। এই মাস মুক্তি ও সফলতা লাভের অনন্য সুযোগ এনে দেয়।
মহামারী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যে আমাদের গত দুটি রমজান কাটাতে হয়েছে। এজন্য রমজানের অনেক আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে পালন করা যায়নি। আশার কথা হলো, এবার রমজান এসেছে এমন একটি সময়ে যখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বস্তিদায়ক। কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় এবার ইফতার-তারাবিসহ সব আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সিয়াম সাধনা করা যাবে। এটা আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের অনেক বড় মেহেরবানী। এজন্য সবার উচিত আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। মহামারীর দুঃসহ স্মৃতির সেই দিনগুলো যেন আর ফিরে না আসে সেজন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা জানানো। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও ভাইরাসটি পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। যেকোনো সময় এটি আবার পুরনো চেহারায় ফিরতে পারে। এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।
একজন মুমিন বান্দার জন্য রমজানের চেয়ে প্রাপ্তির কোনো মাস হতে পারে না। কারণ এই মাসে করা নফল কাজগুলো ফরজ কাজের মর্যাদা পায়, আর ফরজ কাজগুলো সত্তর গুণ অধিক মর্যাদা পায় (বায়হাকি)। রমজান মাস এলে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, সৎপথে চলার পথ সহজ হয়ে যায়, শয়তানকে শেকলে আবদ্ধ করা হয় (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)। অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে রোজা ঢালস্বরূপ। যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে তার অতীত ও বর্তমানের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। রমজান মুমিনের জন্য কাক্সিক্ষত সফলতা লাভের সুবর্ণ সুযোগ। তবে রমজানের প্রাপ্তি ও সুফল নিশ্চিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, এ মাসের দাবি যথাযথভাবে আদায় করা। রোজার সব বিধিবিধান পুরোপুরি মেনে চলা। এজন্য আসুন এই মাসের রহমত ও বরকত পুরোপুরি লাভে সচেষ্ট হই। যথাযথভাবে হক আদায় করে সিয়াম পালনের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করি।
লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার
