দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২৩ এএম

দেশের আকাশে গতকাল শনিবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ হিসেবে আজ রবিবার থেকে রোজা শুরু। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ কথা জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের আকাশে আজ (গতকাল) রমজান মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া গেছে। ফলে শাবান মাস ২৯ দিনে শেষ হচ্ছে। রবিবার থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে।’

চাঁদ দেখা যাওয়ায় গতকাল রাতে প্রথম রোজার তারাবির নামাজ পড়েন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এরপর রাতে সাহরি খান। আগামী ২৮ এপ্রিল রাতে পবিত্র শবেকদর পালিত হবে বলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ‘আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় রমজান। রোজা ধনী-গরিব সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রাখে। রমজানের এ শিক্ষা সমাজের সব স্তর ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, ‘রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ ও সংঘাত পরিহার করি এবং জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি।’ করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রমজানের তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন মুসলমানরা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গত শনিবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ হয়ে থাকে।

গতকাল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক ড. মো. মুশফিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সারা দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে পবিত্র রমজানে খতম তারাবি পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এক বিবৃতিতে ইফা জানিয়েছে, পবিত্র রমজানে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতম তারাবি নামাজে পবিত্র কোরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তেলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনো কোনো মসজিদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে কর্ম উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের মধ্যে কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না, যা তাদের জন্য অতৃপ্তি ও মানসিক চাপের কারণ। কোরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে রমজানের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ এবং বাকি ২১ দিনে এক পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করলে ২৭ রমজানের রাতে অর্থাৎ পবিত্র শবেকদরে কোরআন খতম করা সম্ভব। দেশের সব মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও সংশ্লিষ্টদের কাছে তারাবি নামাজে এ রীতি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে ইফা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত