ডায়রিয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২০ এএম

এ বছর ডায়রিয়ার সর্বোচ্চ ‘পিক’ হয়েছে রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের কলেরা হাসপাতালে। হাসপাতালের ৬০ বছরের ইতিহাসে এক দিনে রোগীর সর্বোচ্চ ‘পিক’ ছিল ২০১৮ সালে, ১০৫০ জন। এ বছর সে ‘পিক’ এসে দাঁড়িয়েছে ১৩০০তে। গত ২৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ১৩৩৪ রোগী ভর্তি হন। অবশ্য এর আগে সর্বোচ্চ ‘পিক’ ছিল গত ২২ মার্চ। সেদিন রোগী ভর্তি হয়েছিল ১২৭২ জন। পরে ছয় দিনের মাথায় সে রেকর্ড ভেঙে ‘পিকের’ নতুন রেকর্ড হয় ২৮ মার্চ।

এ ব্যাপারে কলেরা হাসপাতালের প্রধান ডা. বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিবছর এ সময় ডায়রিয়া বাড়ে। তবে এবার বৃদ্ধিটা অন্য বছরের চেয়ে বেশি। সর্বোচ্চ ২০১৮ সালে ১০৫০ রোগী ছিল ‘পিক’, এবারের ‘পিক’ ১৩শতে চলে এসেছে। এটা আগে কখনো দেখা যায়নি।

এ বছর ডায়রিয়া বাড়ার কারণ কীজানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, এটা হতে পারে, লোকসংখ্যা বেড়েছে। আর লোকসংখ্যা বাড়লে রোগও বাড়বেএটাই স্বাভাবিক। করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকা- বেড়েছে, মানুষ শহরমুখী হচ্ছে, সবকিছু খোলা। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চলাফেরা বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিবেলায় খাওয়া সম্ভব নয়। এসব কারণে ডায়রিয়া বাড়তে পারে।

গত ১৬ মার্চের পর থেকেই আইসিডিডিআর,বি’র কলেরা হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী বাড়তে থাকে। সেদিন রোগী ভর্তি হয়েছিল ১০৫৭ জন। কিন্তু পরদিন থেকে টানা চার দিন (১৭-২০ মার্চ) দৈনিক ১১শ বেশি রোগী ভর্তি হয়। এরপরের তিন দিন (২১-২৩ মার্চ) দৈনিক রোগী ১২শ’র ঘর ছাড়িয়ে যায়। পরের চারদিন (২৪-২৭ মার্চ) দৈনিক রোগীর সংখ্যা আগের মতোই ১১শ-১২শ’র ঘরে ছিল। কিন্তু ২৮ মার্চ দৈনিক রোগী বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৩৪ জনে এবং টানা তিন দিন ১৩শ’র ঘরে রোগী থাকে। অবশ্য এরপর গত তিন দিন (৩১ মার্চ-২ এপ্রিল) পর্যন্ত রোগী কমে ১২শ’র ঘরে চলে আসে। সর্বশেষ গত শনিবার দৈনিক রোগী ছিল ১২৭৪ জন ও গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি হয় ৭৮৫ জন।

এমন পরিস্থিতিতে এখন ডায়রিয়ার প্রবণতা নিম্নমুখী বলে জানিয়েছেন ডা. বাহারুল আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বোচ্চ ‘পিকের’ পরদিন থেকেই রোগী কমছে। আজ (গতকাল রবিবার) গতকালের (শনিবার) চেয়ে রোগী কম। এই নিম্নমুখী ধারাটা অব্যাহত থাকলে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ডায়রিয়া কমবে। আজ (রবিবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত গতকালের (শনিবার) তুলনায় দেড়শ কম ছিল। গত শনিবার বিকেল ৫টায় রোগী ছিল ৯২০ জন, গতকাল রবিবার ছিল ৭৮৫ জন। সকাল থেকেই ধারাটা নিম্নমুখী। আশা করছি আজ (গতকাল রবিবার) ১১শ’র মধ্যে থাকবে। আগামীকাল (আজ) যদি আরও কমে, তা হলে আস্তে আস্তে কমে আসবে।

এই চিকিৎসক জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে এবং সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কলেরা হাসপাতালের শয্যার পাশাপাশি চিকিৎসকের সংখ্যা দ্বিগুণ, নার্সের সংখ্যা তিনগুণ এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যাও অনেক বাড়ানো হয়েছে।

ডা. বাহারুল আলম বলেন, রমজানে এমনিতেই দিনের বেলা স্ট্রিটফুড কম থাকে। সন্ধ্যায় আবার বেড়ে যায়। ইফতারে প্রচুর দোকান হয়। এসব দোকান স্বাস্থ্যবিধি মানে, খাবারগুলো যদি ঢেকে রাখে, তাহলে ডায়রিয়ার সম্ভাবনাটা কম থাকে। আর যদি খোলা রাখে, তা হলে বিপদ। অন্যান্য সরকারি সংস্থা খোলা খাবারের ব্যাপারে সতর্ক। তারা নিশ্চয় মানুষকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করবে। সেক্ষেত্রে স্ট্রিটফুড থেকে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবটা কমে আসবে। এটা একটা ভালো দিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত