‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ কী তবে রস টেলরের বিদায়ী ম্যাচের স্ক্রিপ্ট আগেই লিখে রেখেছিলেন? এমনটা মনে হতেই পারে। কেননা তার হাত দিয়েই যে শেষ হলো নেদারল্যান্ডসের ইনিংস!
ম্যাট হেনরির বলে শেষ উইকেট আরিয়ান দত্তকে তালুবন্দী করেন টেলর। সেই সঙ্গে ৪২.৩ ওভরে ২১৮ রানে থামে ডাচদের ইনিংস। এর পরপরই হ্যামিল্টনের সিডন পার্কের বিশাল পর্দায় ভেসে উঠল ‘ধন্যবাদ রস্কো’। বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নেমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ৩৫১তম ক্যাচও পেলেন টেলর।
ক্রিকেট বিশ্বেরও ধন্যবাদ প্রাপ্য টেলরের। প্রায় দেড় যুগের ক্যারিয়ারে কত স্মৃতিময় ম্যাচ-মুহূর্ত তো উপহার দিয়েছেন তিনি। অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জুগিয়েছেন বিনোদন। নিউজিল্যান্ডের সোনালি যুগের অন্যতম সফল ব্যাটার টেলর। অবশেষে তার ১৬ বছরের ক্যারিয়ার থামল ডাচদের বিপক্ষে সিরিজে।
আর মিলটাও দেখুন, এই ম্যাচে কিনা ৩৮ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার খেললেন ১৬ বল। তাতে এক ছয়ে তার রান ১৪। কিউইরা ম্যাচটি জিতেছে ১১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। সেই সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে ডাচদের করল হোয়াইটওয়াশ।
বিদায়ী ম্যাচে টেলরের ব্যাট না হাসলেও সতীর্থরা যেন আগে থেকে প্রস্তুত ছিলেন দীর্ঘদিনের সতীর্থকে জয় উপহার দেওয়ার। তার জন্য শুরু থেকে ব্যাটে ঝড় তুলে সেঞ্চুরি করলেন মার্টিন গাপটিল। আরেক সেঞ্চুরিয়ান ও ম্যাচে সেরা হওয়া উইল ইয়ংকে নিয়ে দলকে বিশাল সংগ্রহ এনে দিলেন এই ওপেনার। ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান করে কিউইরা। যেখানে গাপটিলের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ এবং ১২০ রান করেন ইয়ং।
এর আগে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতেও টেলরকে জয় উপহার দিয়ে বিদায় জানিয়েছিলেন সতীর্থরা। ডাচদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজই দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার ঘোষণা দেন কিংবদন্তি কিউই ব্যাটার।
ব্ল্যাক ক্যাপদের হয়ে শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামার আগে নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের থেকে ‘গার্ড অব অনার’ পান টেলর। এর আগে যখন শেষবারের মতো ক্রিকেট মাঠে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত গাইছিলেন, তখন চোখের জল সামলাতে পারেননি তিনি।
যে ক্রিকেট তাকে এতকিছু দিয়েছে, সেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানো যে কঠিন! সতীর্থরাও যে মিস করবে তাদের প্রিয় রস্কোকে। হ্যাঁ, প্রিয়জনদের কাছে এই নামেই পরিচিত টেলর।
