গণহত্যার অভিযোগ

বুচা নিয়ে চাপ বাড়ছে রাশিয়ার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৫৬ এএম

ইউক্রেনের বুচাসহ রাজধানী কিয়েভের আশপাশের শহরগুলোতে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে। ওই সব শহর থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের পর বেসামরিক লোকজনের মরদেহ এবং গণকবরের খোঁজ পাওয়ার খবর আসে। গত শনিবার থেকে সেখানে যেতে শুরু করেন সাংবাদিকরা। গতকাল সোমবার বুচা শহর পরিদর্শনে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, নির্বিচারে বেসামরিক মানুষ হত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

তবে বুচার এ ঘটনা ও গণহত্যার দাবিকে সাজানো নাটক ও রাশিয়াবিরোধী উসকানি হিসেবে দাবি করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তার ভাষ্য, ইউক্রেনের এমন দাবি বিশ^ শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।

এদিকে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার ওপর আরও শক্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশগুলোর নেতারা। এ ঘটনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এসব ঘটনাকে ‘ইচ্ছাকৃত গণহত্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইউক্রেন সরকার বলছে, ওই শহরে তারা ২০টি মৃতদেহ পেয়েছে, যাদের পরনে ছিল বেসামরিক পোশাক। তার দাবি, মারিওপোলে এর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।

বুচায় সফরে গিয়ে গতকাল প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, রুশ সৈন্যদের ‘নৃশংসতার’ যে প্রমাণ দেখা যাচ্ছে, তাতে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

বার্তা সংস্থা তাস রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্ধৃত করে বলেছে, কিয়েভের আশপাশ থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের কয়েক দিন পর এসব নৃশংস ঘটনা সাজানো হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। এসব ভুয়া ভিডিও এবং আরও অনেক ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরা।’

রাশিয়ার অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধের এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে একটি বৈঠকের জন্য মস্কো প্রস্তাব দিলেও পরিষদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্য তা করতে দেয়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত