ময়মনসিংহে এখনো ইফতারির আইটেমে জাকির হোসেনের ‘টক মিষ্টি জিলাপি’ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এর পরিচিতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, আশপাশের উপজেলা থেকে মানুষ শহরে এলে এই জিলাপি প্রিয়জনদের জন্য নিয়ে যান। সারা বছরই তৈরি হয় এই টক মিষ্টি জিলাপি। তবে রোজার সময় ইফতারির মজাদার আইটেম হিসেবে এই জিলাপির কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুল মোড়ের হোটেল মেহেরবানে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মাষকলাই ডালের গুঁড়া, চালের গুঁড়া, ময়দা, চিনি ও তেঁতুলের টক দিয়ে জিলাপি তৈরি করে আসছেন জাকির হোসেন। রোজার মাসে দুপুর ১২টার পর থেকেই তিনি ভাজতে শুরু করেন এ জিলাপি। স্বাদে অনন্য এ জিলাপি কিনতে আসরের নামাজের আগেই ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়।
এবারের রোজায় সাধারণ টক জিলাপি ১৬০ টাকা কেজি, আমিত্তি টক জিলাপি ১৮০ টাকা কেজি এবং ঘিয়ে ভাজা স্পেশাল টক জিলাপি ২৪০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর কাঠগোলা এলাকার আশরাফুল হক তানভীর বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে ময়মনসিংহ শহরের মানুষের মাঝে ঐতিহ্যবাহী এ জিলাপি ইফতারির আইটেম হিসেবে বেশ প্রিয় পদ। অনেকেরই এ টক জিলাপি ছাড়া ইফতারই হয় না!
জিলাপির কারিগর জাকির হোসেন বলেন, জিলাপি তৈরিতে সাধারণত আটা বা ময়দা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমরা এসবের পরিবর্তে চালের গুঁড়া ব্যবহার করি। চালের সঙ্গে ডাল মিশিয়ে ভাজার কারণে স্বাদটাই অন্যরকম। প্রতিবার জিলাপি ভাজতে নতুন তেল ব্যবহার করি। একবার ব্যবহার করা তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করি না। মান ভালো থাকার কারণে দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন জিলাপি কিনতে এখানে আসেন।
তিনি আরও বলেন, বছরের পুরোটা সময় জিলাপি বিক্রি করি। কিন্তু রোজার মধ্যে এ জিলাপির কদর অনেক বেড়ে যায়। রোজায় প্রতিদিন গড়ে তিন মণ জিলাপি বিক্রি করি। ইফতারির আইটেমে এটি এখন ময়মনসিংহের মানুষের মাঝে বেশ সমাদৃত।
এই টক মিষ্টি জিলাপি তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে জাকির হোসেন বলেন, একদিন ভারী বর্ষণের কারণে ক্রেতার অভাবে জিলাপি তৈরির কিছু ময়াল (মন্ড) থেকে যায়। তিনি সেই ময়ালের সঙ্গে মাষকলাই ডালের গুঁড়া, চালের গুঁড়া ও তেঁতুলের টক মিশিয়ে দেড় কেজি পরিমাণ জিলাপি তৈরি করেন; যা নিজে ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খান। সবাই তখন টক জিলাপি খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এরপর তিনি বাণিজ্যিকভাবে জিলা স্কুল মোড়ে হোটেল মেহেরবানে টক জিলাপি তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন।
