হ্যাটট্রিক মিসেও ৪ উইকেট মাশরাফীর

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ১০:৪৫ পিএম

অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক হলো না মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। ‘এক বল আগে আউট হলি না কেন?’-পেসার নুর আলম সাদ্দামকে মজার ছলে প্রশ্নটা করতেই পারেন মাশরাফী। একটি বল ঠেকিয়ে যে পরের বলেই যে ক্যাচ আউট হয়েছেন সাদ্দাম। অথচ এই পেসার এক বল আগে আউট হলে উড়িয়ে মারলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেত মাশরাফীর। খেলাঘরের ইনিংস শেষ করে দেওয়া ওভারটিতে হ্যাটট্রিক না হলেও ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। যা এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত তার সেরা বোলিং ফিগার। ১ মেডেনে ৮ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফী। তার বোলিংয়ে খেলাঘর ১৯৮ রানে অলআউট হয়। তবে এই রানও কঠিন হয়ে ওঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জন্য। তানবীর হায়দার ৬১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে শেষ ওভারে দলকে ২ উইকেটের জয় এনে দেন।

দারুণ বোলিংয়ের জন্য মাশরাফী ম্যাচসেরা হয়েছেন ঠিকই। তবে ব্যাটেও তার অবদান থাকতে পারত। ১৭ বলে ১ চারে ১২ রান করে তানবীর হায়দারের সঙ্গে ২১ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। এ জুটি বাড়তে দেননি নূর আলম। মজার ব্যাপার হলো মাশরাফীর বলে আউট হওয়া এই পেসার ফিরিয়েছেন মাশরাফীকেই। তাতে রূপগঞ্জ বিপদে পড়ে যায়। বাকি ৬ ওভারে প্রায় একা হাতে দলকে জেতান তানবীর। জয়ের দূরত্ব খুব বেশি না হলেও শেষ দুই ব্যাটারকে নিয়ে আগানো কঠিন ছিল। এক ছক্কায় আসিফ হোসেনের ৮ রান ও তানবীরের অপরাজিত ৫১ রানে ৪৯.৩ ওভারে ম্যাচ জেতে রূপগঞ্জ। এর আগে ভারতীয় চিরাগ জানি ৭৮ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে রাখেন। টানা ৬ ইনিংসে রান ফোয়ারা ছোটানোর পর থামেন নাঈম ইসলাম। কাল করেছেন মাত্র ২৪ রান। খেলাঘরের হয়ে দুইশো ছোঁয়া ইনিংসে অবদান ছিল অমিত মজুমদারের (৮৮ বলে ৫৯)। এই জয়ে রূপগঞ্জ ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় সেরা চারে আছে।

হ্যাটট্রিক হলে দিনটি অবশ্যই স্মরণীয় হতো মাশরাফীর। তবে একদিক থেকে এই দিনটি তার জন্য মনে রাখার মতোই। ৫ বছর আগে ৬ মার্চ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসব নিয়েছিলেন তিনি। কাল ম্যাচ শেষে সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিতে বিষয়টি মনে পড়ল তার, ‘অবসরের কথা মনে আছে কিন্তু দিনটি যে আজ (গতকাল) তা মনে নেই। খেয়াল ছিল না।’ মাশরাফী এখন আর সেসব নিয়ে ভাবেনও না। বর্তমানে রূপগঞ্জের হয়ে বল হাতে যতটুকু অবদান রাখা যায় সেই চিন্তায় আছেন। কাল ৪ উইকেট নেওয়ার সন্তুষ্টি ঝরিয়ে বললেন, ‘দলে তো খেলছি বোলার হিসেবে তো ঐ দায়িত্ব তো আলাদা ভাবে নিতেই হয়। আর উইকেট পেলে অবশ্যই ভাল লাগে। প্রায় সব ম্যাচেই উইকেট পেয়েছি এটা আমার জন্য ভালো হয়েছে।’

দিনের অন্য ম্যাচে সিটি ক্লাব শাইনপুকুরকে ৪ উইকেটে হারিয়ে লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলেছে। শাইনপুকুর আগে ব্যাট করে মাত্র ১৭৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে সিটি ৬ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে ১০ ওভার হাতে রেখে জিতে যায়। নবাগত দলটির এই সাফল্যে দারুণ ভূমিকা রাখেন বোলার রাজিবুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনার ওপেনার রাকিন (৩৫), তাসামুল (৮) ও সিকান্দার রাজাকে (২) ২০ ওভারের মধ্যে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পুরো ১০ ওভারে ১টি মেডেনসহ মাত্র ১৮ রানে ৩ উইকেট রাজিবুলের শিকার। এই পারফরম্যান্স তাকে ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয়। শাহরিয়ার কমল ৫৫, জাকিরুল ৪৬ ও আশিক-উল-আলমের অপরাজিত ৪৪ রানে জিতেছে সিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত