লিফলেট বিলির সময় বিএনপির ইশরাক গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪১ এএম

রাজধানীর মতিঝিলে লিফলেট বিতরণের সময় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার একটি পুরনো মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের কাছ থেকে ইশরাককে আটক করা হয়।

এরপর আদালতে হাজির করা হলে ইশরাক হোসেন জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ইশরাককে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে সিএমএম আদালতসংলগ্ন রায়সাহেব বাজার মোড়ে প্রিজনভ্যানে হামলা করেন বিএনপি সমর্থকরা। হামলার সময় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মতিঝিল থানায় হওয়া মামলায় তাকে দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ঢাকার মহানগর হাকিম তামান্না ফারাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে ইশরাকের পক্ষে জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে বিচারক তা নাচক করে দেন।

ইশরাকের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরুজ্জামান তপনসহ বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন।

বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইশরাক ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ইশরাক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মতিঝিলে লিফলেট বিতরণ করার সময় ইশরাককে আটক করে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীরা ইশরাককে গ্রেপ্তারে বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাহারায় বিএনপি নেতা ইশরাককে আটক করে থানা নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে ৪২ জনকে আসামি করে এই মামলা করে পুলিশ। তার মধ্যে ইশরাক এক নন্বার আসামি।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক মিঠু জানান, গাড়ি পোড়ানোর মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন ইশরাক। সেই জামিনের মেয়াদ শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে অন্তর্র্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপর জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে না নেয়ায় ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত