করোনার বাড়াবাড়িতে গেল দুই বছর পুরান ঢাকার অলিগলির ইফতার বাজার ছিল অনেটাই মলিন। তবে এবার রমজানের শুরু থেকেই ঐতিত্যবাহী নানা খাবার নিয়ে স্বরূপে ফিরেছে পুরান ঢাকার অলিগলির দোকানগুলো। চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গেল কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে এসব দোকানে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর বাড়তি চাহিদার কারণে এবার দামও চড়া।
পুরান ঢাকার একাধিক ইফতার বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত দুই বছর প্রশাসন থেকে দোকান বসার অনুমতি ছিল না। এবার শুরু থেকে ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। কয়দিন ধরে গ্যাস সংকট থাকায় আমাদের দোকানগুলোর ইফতারের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। এখানকার মানুষ বাধ্য হয়ে ইফতার সামগ্রী নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন।
সরেজমিন পুরান ঢাকার ইসলামপুর, আরমানিটোলা, বংশাল, সূত্রাপুর, গে-ারিয়া, ওয়ারীতে হাঁকডাক করে ইফতারি বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে অলিগলির ছোট দোকানগুলোতেও ইফতার সামগ্রীর চাহিদা অন্যান্য বারের থেকে বেশি থাকায় বেচাকেনা বেশি করতে দেখা যায়। সকাল থেকেই ইফতার সামগ্রী বানাতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় দোকানগুলোর কর্মচারীদের। দুপুর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
সূত্রাপুরের বাসিন্দা আরফিন সানজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকায় কয়দিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। আগে যারা বাসাবাড়িতে ইফতার বানাত তারা, এখন গ্যাস না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
বংশালের আরেক বাসিন্দা আতিক হাসান বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম গত বছরের চেয়ে এবছর অনেক বাড়তি। যার জন্য এই সব গলির ইফতার বাজারে ইফতারের দামও অনেক বেড়ে গেছে। তবে বাধ্য হয়ে ইফতার কিনতে হচ্ছে। সরকারের উচিত রমজান মাসে বাজারটা ভালোভাবে মনিটরিং করা।
কলতাবাজার এলাকায় ইফতার বিক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, ‘বিধিনিষেধ’র কারণে গত বছর ক্রেতা কম ছিল। তবে এবছর ভালোই বিক্রি হচ্ছে। সামনে আরও বেচাকেনা বাড়বে।’
বাংলাবাজার এলাকার আরেক ইফতার বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, ‘তেল থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই বেশি। বাজারে দুই দিন আগে যে বেগুন ৬০ টাকায় কেনা হয়েছে তা আজ (গতকাল) কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। তারপরও ঠিকঠাক মতো পাওয়া যাচ্ছে না। আর অন্য সবজির দামও তো কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি। আমাদেরও পরিবার আছে। এখান থেকে লাভ করেই সংসার চালাতে হয়। তাই আগের থেকে কিছুটা বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
