চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ছয়টি শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী ১৭৭ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে কেন্দ্রে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৫টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। উত্তর জেলায় ২৭ ও দক্ষিণ জেলায় ৪৫ জন।
এ প্রসঙ্গে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সিদ্ধান্ত অনুসারে চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়া হয়েছে। এ তিনটি ইউনিটে ১৭৭টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। এখান থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যাচাই-বাছাই শেষে নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী ৩৫ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৭০ জন জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছেন। উত্তর জেলায় সভাপতি পদে ৯ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ এবং দক্ষিণ জেলায় সভাপতি পদে ১০ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৫ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।
এর আগে গত ২৬ মার্চ রাতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি-সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। গত ২ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত যুবলীগের প্রধান কার্যালয়ের দপ্তর শাখায় এসব জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের শীর্ষ দুই পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে এবং জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছেন তাদের মধ্যে নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, দিদারুল আলম, নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির দুই নেতা এম আর আজিম ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, দেবাশীষ পাল দেবু, ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরশেদুল আলম বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন অন্যতম।
এদিকে নতুন কমিটির হওয়ার খবরে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম যুবলীগের শীর্ষ তিন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে অনেকে তৎপরতা শুরু করেছেন। এসব পদের জন্য নতুন-পুরনো অনেকেই তদবির শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে যুবলীগের বর্তমান কমিটিরও অনেক নেতা রয়েছেন। পদপ্রত্যাশী অনেকেই এখন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আবার অনেকেই ঢাকায়ও অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন অনেক পদপ্রত্যাশী।
তবে এবারের কমিটিতে যোগ্য নেতৃত্ব আনা হবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের তিন ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাই ও আলোচনা করে ঈদের পরে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবার যেসব কমিটি হবে সেগুলো যোগ্য নেতৃত্বের হাতেই যাবে।’
উল্লেখ্য, প্রায় ৯ বছর আগে ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই কেন্দ্র থেকে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও ফরিদ মাহমুদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। তিন মাসের এ আহ্বায়ক কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এ কমিটি ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এমনকি নগরের ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড নিয়ে ১০১ সদস্যের এ আহ্বায়ক কমিটিতে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড ও লালখানবাজার ওয়ার্ড থেকে ৩১ জনের কমিটিতে ঠাঁই হয়েছিল। অথচ দক্ষিণ কাট্টলি, ৩৪ নম্বর পাহাড়তলী ও দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড থেকে তখন কমিটিতে কাউকে রাখা হয়নি। এ নিয়ে তখন কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। অবশ্য বেশ কজন প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে নিজস্ব বলয় সৃষ্টির মাধ্যমে মহানগর যুবলীগের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তবে তা নামসর্বস্ব।
