মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়ের পরের সিরিজে ৫৩ রানে অলআউট। বাংলাদেশ দল জানে এত কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার দল তারা এখন আর নয়। তবে সেটা মাঠে প্রমাণ করতে হবে। সেই প্রমাণ দেওয়ার মঞ্চ আজ থেকে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। সেন্ট জর্জেস পার্কে আজ থেকে শুরু ম্যাচে নিজেদের প্রমাণের পাশাপাশি চলমান অস্থিরতার বিরুদ্ধেও লড়তে হবে মুমিনুলদের। ডারবানে প্রথম টেস্টে টস জিতে বোলিং নেওয়ার সমালোচনা এখনো চলছে। ভালো কিছু না হলে তা বাংলাদেশকে তাই বাইরের আলোচনাও থামাতে হবে। সব কিছুই সম্ভব শুধু জয় দিয়ে। পোর্ট এলিজাবেথের নতুন নাম গেবেরহাতে বাংলাদেশও সেই জয়ের আশায় নামছে নতুন করে। নতুন আশার পালে ঢেউ দিতে পারেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এই পোর্ট এলিজাবেথের মাঠটি ডমিঙ্গোর খুব পরিচিত। তার অধীনে এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা যে কয়টি টেস্ট খেলেছে হারেনি কোনোটিতেই। বাংলাদেশের কোচ হয়েও কি অজেয় থাকবেন ডমিঙ্গো? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই মিলছে না। তবে এই মাঠ নিয়ে তার অভিজ্ঞতার সবটাই যে বর্তমান শিষ্যদের শেয়ার করেছেন তা নিশ্চিত।
একাদশে আজ পরিবর্তন আসছে নিশ্চিত। সাদমান ইসলামের বদলে তামিম ইকবাল ফিরছেন। এছাড়া তাসকিনের জায়গায় ফিরবেন একজন বোলার। তিনি আবু জায়েদ রাহি না তাইজুল ইসলাম সেটাই দেখার। বিশ্বের সব দলই এখন ম্যাচের আগের দিন একাদশ নিশ্চিত করে এবং ঘোষণাও দিয়ে দেয়। বাংলাদেশও একাদশ নিশ্চিত করে কিন্তু ঘোষণা দেওয়ার মতো সংস্কৃতি এখনো তৈরি করতে পারেনি। সেন্ট জর্জেস পার্কের ইতিহাস বলছে দেশটির সবচেয়ে পরনো টেস্ট ভেন্যুর পিচ সময়ের সঙ্গে স্পিনারদের সহায়তা দেয়। এ দিকটায় চোখ রাখলে পাকিস্তান সিরিজের পর তাইজুল ইসলামের একাদশে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। দলে ফেরা তামিম ইকবালের জন্য অপেক্ষা করছে দারুণ কিছুর হাতছানি। ২১২ রান করলে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁবেন। তবে মুশফিকুর রহিমের জন্য এই পথটা আরও সহজ। একটি সেঞ্চুরি করলেই (১২৭ রান) ছুঁয়ে ফেলবেন ৫ হাজার রানের কোটা। তবে গত টেস্টের দুই ইনিংসেই খারাপ করে অফফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুশি। অধিনায়ক মুমিনুল অবশ্য মুশফিকের অফফর্মে চিন্তিত নন। মুশফিকের যেকোনো সময় ফর্মে ফেরার আশা রাখেন তিনি। তাছাড়া তামিম ইকবালের ফেরাও ভালো কিছুর ভরসা দিচ্ছে অধিনায়ককে, ‘তামিম ভাইর কন্ডিশন আল্লাহর রহমতে ভালো আছে। আমরা পরের ম্যাচে খেলার জন্য আশাবাদী ইনশাল্লাহ উনি খেলবেন। আপনারা যে একটা পেস বোলার অথবা একটা স্পিনের কথা বলছেন, আমরা আসলে কালকে পর্যন্ত না দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না কী হবে। মুশফিক ভাইকে নিয়ে কোনো চিন্তাই করি না। উনি বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান। তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি আছে। উনি অবশ্যই দ্রুত কামব্যাক করবেন। আর আমি নিজেকে নিয়েও চিন্তিত নই। আগে কী হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে সামনের ম্যাচে কী হবে সেটার দিকে তাকাচ্ছি।’
এই মাঠে শেষ দুই টেস্টে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য এই ইতিহাস ঘেঁটে লাভ নেই। ডারবানে আগের ৯ টেস্টে মাত্র একটি জয় ও ড্র ছিল প্রোটিয়াদের। বাংলাদেশেরও জয়ের সুযোগ ছিল মাঠটিতে। কিন্তু নিজেদের ভুলে পিছলে পড়ে ম্যাচ হেরে বসেন মুমিনুলরা। তাই ম্যাচপ্রতি মনোযোগ রেখেই খেলতে হয়। মুমিনুলও সেই কাজটাই করছেন, ‘দেখেন উইকেটটা যতটুকু দেখলাম, হয়তো একটু শুকনা আছে, আমার কাছে যতটুকু মনে হয় আগের ইতিহাস কী হয়েছিল না হয়েছিল এগুলো নিয়ে ভাবাটা খুবই কঠিন। কারণ হয়তো এখানে আপনার ভিন্নও হতে পারে।’
এই মাঠের বড় বিষয় বাতাস। বাংলাদেশ দলের প্রোটিয়া কোচরা সেই দিকটি বারবার বলছেন শিষ্যদের। মুমিনুলরা তাই এই নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাতাসের কারণে বল সুইং করে বেশি আবার এয়ার সুইং হয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্তও করে পেসারদের ডেলিভারিগুলো। সেসব মানিয়ে নিয়েই টেস্টে এগোতে চান মুমিনুল।
এদিকে বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হেরে টেস্ট সিরিজকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। প্রথম টেস্টে জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের মরিয়া হওয়া শরীরী ভাষা তার প্রমাণ। এমনিতেই ৫ সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়া নেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার দুঃসংবাদ ছিল অধিনায়ক ডিন এলগারকে নিয়ে। প্রথম টেস্টের পরপরই বাথরুমে গোছল করার সময় পিছলে পড়ে মাথায় আঘাত পান। ৫টি সেলাই লেগেছে চোখের ওপর। তবুও দ্বিতীয় টেস্টের আগে যেনতেনভাবে সেরে উঠতে চেষ্টা করছেন। তাই চোখের ওপর সেলাই নিয়েই ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন এলগার। যেন মাঠে নামতেই হবে, জিততেই হবে। গ্রীষ্মের শেষ ম্যাচটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন এলগাররা। বাংলাদেশের কাছে কোনোভাবেই হারতে চান না তারা।
তবে এলগার অবশ্যই জানেন বাংলাদেশ এখন আর পুরনো দল নয়। পোর্ট এলিজাবেথে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নামলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে এই ম্যাচ জেতার সামর্থ্য আছে মুমিনুলদের। বাংলাদেশ অধিনায়কও তাকিয়ে আছেন আরেকবার ১২-১৩ সেশন জিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিউজিল্যান্ডের সাফল্য ফিরিয়ে আনতে।
