গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হলো কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে এবার ৩২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি আজ শুক্রবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় জানানো হবে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাইরে বিভিন্ন কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র করা হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান, জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান ছাড়াও ৩৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মনোনীত প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাইরে থাকা আটটি বিশ্ববিদ্যালয়কেও গুচ্ছ পদ্ধতিতে আনার চেষ্টা করা হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির আদলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।’
গত বছর সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং কৃষি ও কৃষি প্রধান এ তিন গুচ্ছে ২৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়।
গতকালের সভায় গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ও ভর্তির সময় প্রকাশ, কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবজেক্টের প্লেসমেন্ট, মাইগ্রেশনের সময় নির্ধারণ ও ভর্তি ফি প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
ইউজিসির পক্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ ও শিক্ষার্থী ভর্তি কম হয় এমন বিভাগগুলোর আসন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া কোন সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষা হবে এবং দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপাচার্যরা গুচ্ছের বাইরে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে এ চার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলাদা গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আলমগীর বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে। এ পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয় পছন্দ ও মাইগ্রেশনের সুযোগ এবং যৌক্তিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেক লাঘব হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় সফলতা বেশি। এবার ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ ও বিভিন্ন কলেজ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে কলে জানান তিনি।
