তাইজুল ইসলামের সে রকম ‘স্টারডম’ নেই। সাকিব-তামিমের মতো তারকা খ্যাতিটা হয়ে ওঠেনি তার। তবুও টেস্টে নিজেকে দলের সেরা বোলার প্রমাণে কার্যকরী ভূমিকা রেখে চলেছেন এই স্পিনার। ২০১৯-এ সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞায় পড়ার পর দলের ফ্রন্টলাইন স্পিনার হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে নিজেকে ক্রমাগত উন্নতির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। টেস্টে হয়ে উঠছেন অন্যরকম ভরসার নাম। পিচ থেকে সুবিধা না পেলেও কঠোর পরিশ্রম করে তাতেই সাফল্য আদায়ের পথ খুঁজে নিচ্ছেন তাইজুল। সেই পরিশ্রমের ফসলে কাল যেমন পেয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের দশমবার ইনিংসে ৫ উইকেট। এই সাফল্য তাকে এনে দিয়েছে টেস্টে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক। সাকিবের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তাইজুল। দক্ষিণ আফ্রিকায় সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার সাফল্যও পেলেন।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাকিবের ছায়া হয়ে থেকেছেন তাইজুল। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতেই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারটা নিজের করে নিয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২০১৪ সালেই ৩৯ রানে ৮ উইকেট এখনো বাংলাদেশের সেরা বোলিং সাফল্য। শুরুতে ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেও এখন শুধু টেস্টের জন্যই বিবেচনা করা হয় তাইজুলকে। লিকলিকে শরীরে লম্বা ফরম্যাটের ধকল ভালোই সামলে চলেছেন তিনি। ২০১৯-এর আগ পর্যন্ত সাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে বল করেছেন। বাংলাদেশের সেরা তারকার নিষেধাজ্ঞার পর থেকে তাইজুল একাই সব। শুধু নিজ দেশের স্পিনিং উইকেটেই বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যে তা নয়, বিদেশেও বোলিং আক্রমণের ভরসা এই বাঁহাতি। সাকিবের নিষেধাজ্ঞার আগ পর্যন্ত ২৫ টেস্টে ৭ বার ইনিংসে ৫ উইকেট বা তার বেশি শিকার করেছেন। তবুও দলের নির্ভরযোগ্য বা সেরা বোলার বলা হতো না তাইজুলকে। সাকিব থাকায় সেই সুযোগও ছিল না। কিন্তু সাকিবের অনুপস্থিতি বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে ওঠে তাইজুলের। দলের বোলিং নেতৃত্ব নেওয়ার দায়িত্বটা ভালোই সামলেছেন তিনি। ২০১৯ আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ১১ টেস্টে ৫১ উইকেট নিয়েছেন। তার আগের ২৫ টেস্টে নিয়েছিলেন ১০৬ উইকেট। ২০১৯-এর আফগান টেস্টে ২৫তম ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেটশিকারি হন। অবশ্য ২০২১ ফেব্রুয়ারিতে ২৪ টেস্টে ১০০ উইকেট নিয়ে মিরাজ এই রেকর্ডে তাইজুলকে টপকে যান।
ক্যারিয়ারের অভিষেকেই ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে শুরু করেন তাইজুল। উইন্ডিজের কিংসটনে সেই সাফল্য পেলেও ৩৭ টেস্টের মধ্যে বেশিরভাগ মানে ২৩ টেস্ট খেলেছেন দেশের মাটিতে। জিম্বাবুয়ে-উইন্ডিজের সঙ্গেই বেশি সাফল্য তাইজুলের। তবে বিদেশের মাটিতে ভালো করার চ্যালেঞ্জে হেরে যান না এই বোলার। দায়িত্বের সঙ্গে সেই বিষয়টাও যেন রপ্ত করে ফেলেছেন। সম্প্রতি বিদেশের মাটিতেও সাফল্য আছে তার। দেশের বাইরে অভিষেকের ওই ইনিংসে ৫ বাদে সম্প্রতি ২০২১-এ শ্রীলঙ্কা সিরিজে পাল্লেকেলেতে ৫ উইকেট নেন। আর সবশেষ সাফল্য চলতি টেস্টের ৬ শিকার। নিকট অতীতে জিম্বাবুয়ে-উইন্ডিজের সঙ্গে ভালো করে এই দুর্নামও ঘুচিয়েছেন তাইজুল। কালকের ৬ উইকেট ছাড়াও আছে গত বছর মিরপুরে পাকিস্তানের সঙ্গে ৭ উইকেটের সাফল্য। ২০১৯-এর পর থেকে তাইজুলের ওপর নির্ভরযোগ্যতাও বেড়েছে দলের। নিয়মিতই ৪০ ওভারের ওপর বল করছেন স্বচ্ছন্দে। গতকাল ইনিংসে ৫০ ওভার করতে হলো তাকে। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ ওভার বল করেছিলেন তাইজুল। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ মিরপুর টেস্টে ৫১ ওভারের পর কালই তাইজুল সবচেয়ে বেশি ওভার বল করলেন।
