রাজশাহীর মনা মিয়া হাইকোর্টের সামনে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ভিক্ষা করেন। শারীরিক এই প্রতিবন্ধী জীবনে ঢাকার অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন। বছরের পর বছর এসে চলে গেলেও তার ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। ইফতারি বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে মনা মিয়া বলেন, ‘আগের দিন নাই। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। বয়স বেশি, খেতেও পারি না। রোজাও রাখতে পারি না। দুই বছর আগেও রমজানে অনেক ইফতারি পেতাম। এখন লোকজন ইফতারি দিতে আসলেও তাতে ভাগ ধরে ভালা মাইনসে। আমাকো ইফতারি তারা লইয়্যা যায়।’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল মানুষের ইফতারির খোঁজ নিতে গিয়ে মনা মিয়ার কথার সত্যতা পাওয়া যায়। ছিন্নমূল মানুষদের অভিযোগ, আগে রমজানে যেভাবে ইফতারি দেওয়া হতো, এখন তা হয় না। আগে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন ইফতারি বিতরণ করত। এখন তাদের দেখা মেলে না। যা দু-একটি সংগঠন ইফতারি বিতরণে আসে, ভালো মানুষেরা হাত বাড়িয়ে নিয়ে চলে যান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে চাকার গাড়িতে বসে আছেন মালা বেগম। তিনি বলেন, ‘ইফতারি তো সব জায়গায় পাওয়া যায় না। কে দিবে আমাদের ইফতারি? এগুলো পেতে হলে দৌড়াতে হয়। আমি তো চলতে ফিরতে পারি না। ১০ রমজান যে গেল একদিনও ইফতারি পাইনি।’
গুলিস্তানের মো. সেলিম বলেন, ‘আমাদের নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। নিয়মিত খাবারই খেতে পারি না। ইফতারি আর কই পাব? তবে দুই বছর আগে রাস্তায় অনেক ইফতারি পেতাম। এখন আর আগের মতো ইফতারি পাওয়া যায় না।’
অবশ্য তার যুক্তি, রমজানে সবকিছুর যে দাম, ইচ্ছে থাকলেও অনেকে ইফতারি দিতে পারছেন না। সরকার আমাদের দিকে তাকালে ভালো হতো।
খিলগাঁও রেলগেট বস্তির বাসিন্দা শরফুদ্দিন আলী বলেন, ‘রমজান গরিবদের মধ্যে দান-খয়রাতের মাস। কিন্তু এখন তেমন কিছুই পাই না। সবারই মনে হয় আয় রোজগার কমেছে। সামনে হয়ত আমাদের আরও সমস্যায় পড়তে হবে।’
