পাপের একটি বড় কারণ অজ্ঞতা। তাই অজ্ঞতা দূর করতে জ্ঞানার্জন যেমন দরকার, তেমনি পাপ থেকে দূরে থাকতে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও অধ্যবসায় অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ উপহার। এই মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর রোজাকে ফরজ করেছেন। রোজার হুকুম দেওয়ার উদ্দেশ্য হিসেবে কোরআন মাজিদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ অর্থাৎ রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুমিন বান্দারা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারে।
তাকওয়া শব্দের অর্থ ভয় ও সংযম। মহান আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ও সব ভালো কাজ ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হওয়ার নাম তাকওয়া। রমজানের দীর্ঘ একটি মাস প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকার যে বিধান রোজায় দেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- বান্দাকে গোনাহমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলা। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘তাকওয়া হচ্ছে পরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করা, কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করা, অল্পে তুষ্টি ও মৃত্যুদিবসের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।’ আর তাকওয়ার বদৌলতে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহতায়ালার কাছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্র কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকি।’
তাকওয়া হচ্ছে- সব আত্মিক রোগের প্রতিষেধক। হিংসা-বিদ্বেষ, কপটতা-কৃপণতা, লোভ-স্বার্থপরতাসহ নানাবিধ ব্যাধির চিকিৎসা। তাকওয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন হৃদয়াত্মার পরিশুদ্ধতা লাভ করে। বিশুদ্ধ ইমানের প্রশান্তি অর্জন করে। আল্লাহ্র ভয় অন্তরে সদা জাগরূক রাখার মাধ্যমে একজন মানুষ যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারে। এ জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকওয়ার স্থান সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনবার নিজের বুকের দিকে ইশারা করেছেন।
যারা পাপাচারের মাধ্যমে জীবনকে বিষিয়ে তুলেছেন, রমজানে তাদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ নিজেকে নতুন করে পরিশুদ্ধ করার। বছরের অন্যান্য রাতের মতো রমজানের প্রতি রাতেও মহান আল্লাহ তার বান্দাকে ডাকেন, ‘আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী যাকে আমি ক্ষমা করে দেব।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ রাতের বেলা তার হাত প্রসারিত করেন, যেন দিনের অপরাধী তার দিকে ফিরে আসে। আবার দিনের বেলা হাত প্রসারিত করেন যেন রাতের অপরাধী তার দিকে ফিরে আসে।’ এছাড়া রমজানে মানুষের চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়। এতে পাপমুক্ত নিষ্কলুষ জীবন গঠন অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়। আর এভাবে তাকওয়ার পথে এগিয়ে যায় একজন রোজাদার এবং রমজানের শেষে মহান রবের পক্ষ থেকে লাভ করে তার কাক্সিক্ষত পুরস্কার।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিসর
