খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গুরু-শীষ্য চর্চার নামে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে গত ৩ এপ্রিল সাময়িক অব্যাহতি দেয়।
ওই ডিসিপ্লিনের ২২ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই সেল তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন সময় নিজ ডিসিপ্লিনের ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে যৌন হয়রানির করে আসছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। যেসব ছাত্রীদের তিনি পছন্দ করেন তাদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দেন। ফিগার পেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের আপত্তিকর কথা বলতেন এবং সে অনুযায়ী কাজও করতে বলতেন। তিনি ছেলেদের কোনোভাবে সহ্য করতে পারতেন না।
আরো অভিযোগ, বিভিন্নভাবে নিজেকে গুরু মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করতেন ওই শিক্ষক। যেসব শিক্ষার্থী তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন তাদের সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানাতেন। ড্রয়িং ও পেইন্টিং শেখানোর ক্ষেত্রে এই গুরু-শিষ্য চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল না। যারা শীষ্যত্ব গ্রহণ করবেন তাদের সবকিছু ত্যাগ করতে বলতেন তিনি। যখন-তখন তাকে সময় দিতে হবে এবং বয়ফ্রেন্ড থাকলে চলবে না বলেও শর্ত দিয়ে আসছেন।
ছাত্রীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক ছাত্রীদের তার সঙ্গে একা দেখা করতে বলতেন। যদি কোনো ছাত্রী কাউকে সঙ্গে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতেন তাহলে ধমক দিয়ে বের করে দিতেন। এ ছাড়া ছাত্রীদের একা দেখলে জোর করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও আছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, পরীক্ষার নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রেও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে কম যোগাযোগ করেন, তাদের কম নম্বর দেওয়া হয়। পছন্দের বাইরের কোনো শিক্ষার্থী প্রয়োজনে ফোন বা যোগাযোগ করলে সাহায্য করেন না।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি এ ধরনের কোনো কাজ তিনি করেননি। কারও ইন্ধনে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন।
ওই সহকারী অধ্যাপক বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে বিস্তারিত জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনো কোনো পত্র দেওয়া হয়নি অভিযোগের ব্যাপারে। শুধু ডিসিপ্লিন প্রধান বরাবর সাময়িক অব্যহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন সময় নিজ ডিসিপ্লিনে অনেক কিছুর প্রতিবাদ করায় এমন হঠাৎ অভিযোগ এসেছে মনে করি। এ ছাড়া কোনো ধরনের বাজে পলিটিক্সের শিকার হয়ে, শিক্ষার্থীরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।
গুরু-শিষ্যের ব্যাপারে বলেন, শিক্ষার্থীরা আসলে এ টার্মই বুঝে না। যার জন্য তারা বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।
ওই সেলের প্রধান মোসা. তাসলিমা খাতুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের আশা করছেন। এটা যেন ভবিষ্যতে আর না করতে হয় এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
