হবু মায়ের রোজা

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৮ এএম

রোজা রাখা নিয়ে গর্ভবতী নারী বেশ চিন্তিত থাকেন। রোজা রাখা যাবে কি না নির্ভর করে গর্ভধারণকারীর শারীরিক অবস্থার ওপর। হবু মায়ের ও গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই একজন গর্ভবতী নারী রোজা রাখতে পারেন। তবে রোজা রাখার আগে ডাক্তারের (গাইনোকলজিস্ট) সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। গর্ভবতী মা যদি সুস্থ থাকেন, গর্ভের শিশুর নড়াচড়া, ওজন, গতিবিধি যদি ঠিক থাকে এবং যদি প্রথম তিন মাস শেষ হয়, তবে রোজা রাখতে পারবেন।

যা খেয়াল রাখবেন

  গরম আবহাওয়ায় হবু মায়ের পানিশূন্যতা দেখা দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং গর্ভের শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই পানিশূন্যতা যাতে সৃষ্টি না হয় সেটি খেয়াল রাখুন।

 গর্ভবতী মা যদি স্বাস্থ্যবান হন তবে রোজা রাখা সহজ। কারণ, তিনি যতক্ষণ রোজা রাখবেন ততক্ষণ গর্ভের শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি তার শরীরে মজুদ থাকে।

 ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া এবং প্রি-অ্যাকলেমসিয়া আছে কি না পরীক্ষা করে নিন। ডায়াবেটিস যদি থাকে তবে রোজা রাখাকালে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে মা ও শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অ্যানিমিয়া আক্রান্ত মায়েরা শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন। অতিমাত্রায় অ্যানিমিয়া আক্রান্ত মায়েদের গর্ভাবস্থায় রোজা না রাখাই শ্রেয়।

করণীয়

রোজা রাখলে নিয়মিত শরীরের ওজন পরীক্ষা করে নিন। খেয়াল রাখুন রোজা থাকা অবস্থায় খুব তৃষ্ণার্ত বোধ ও প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয় কি না। দুশ্চিন্তা ও চাপমুক্ত এবং হাসি-খুশি থাকুন। বমি বমি অনুভূতি হয় কি না খেয়াল রাখুন। বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা হাঁটা থেকে বিরত থাকুন। ভারী কিছু বহন করবেন না। সাহরি ও ইফতার এবং রাতের খাবারে ব্যালেন্স ডায়েট রাখার চেষ্টা করুন। রাতে দ্রুত ঘুমান। সাহরি খাওয়া বাদ দেবেন না। ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। লাল আটা, হোলগ্রেইনস, কম জিএল চাল, খেজুর এবং অন্যান্য শুকনো খাবারের মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার ধীরে শক্তি নিঃসরণ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে শাকসবজি এবং ফলমূল খান। সাহরি, ইফতার ও রাতে মিলিয়ে কমপক্ষে ১.৫ থেকে ২ লিটার পানি পান করুন। তবে জোর করে পানি পান করবেন না। গরম এড়িয়ে ঠা-া জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন। পেটে গ্যাস হয় এমন খাবার বাদ দিন। পানিশূন্যতা ও শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা এড়াতে পানি ও তরল খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে। তরমুজ, আনারস, বাঙ্গি, কলা ইত্যাদি ইফতারির মেন্যুতে রাখতে হবে। ফল ও আঁশযুক্ত খাবার ধীরগতিতে পরিপাক হয় বলে ক্ষুধা কম লাগে। পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পানীয়ও পান করতে পারেন। লেবুর শরবতে চিনির পাশাপাশি কিছুটা লবণ মিশিয়ে নিন। গ্লুকোজও খেতে পারেন। দুধ খেতে সমস্যা না হলে সাহরিতে দুধও খেতে পারেন। অনেকের গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ সেবন করতে হয়। তারা দিনের বেলার ওষুধগুলো রাতে খেয়ে নেবেন। যে ওষুধগুলো সারা দিনে একবারই খেতেন, সেগুলো রাতে খাবেন। আর যে ওষুধ মোট দুবার খেতে হবে, সেগুলো ইফতার ও শেষরাতে আরেকবার খেয়ে নিলে হবে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

যদি শিশুর নড়াচড়া অনুভূত না হয়। তলপেটে ব্যথা হয়। অনেক বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি ঘুম ঘুম ভাব বা দুর্বল লাগে। যদি বমি হতে থাকে এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভব হয়। জ্বর জ্বর ভাব থাকে। খুব ঘন ও কম প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে আপনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন। তখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত