ঈদযাত্রায় এবারও সেই ১২ কিমি নিয়েই শঙ্কা

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ০১:৫৬ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা থেকে এবার যারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরাঞ্চলে যাবেন তাদের জন্য এবারও শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটির ১২ কিলোমিটার অংশ। এই মহাসড়কে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত অংশের বিভিন্ন জায়গায় চলছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। কোথাও উড়াল সেতুর স্ল্যাব বসানো, কোথাও সড়ক মেরামত আবার কোথাও চলছে উড়াল সেতুর পিলার নির্মাণকাজ। সড়কের একদিকে চলছে উন্নয়নকাজ, অন্যদিকে সংকুচিত হয়ে যাওয়া সড়ক দিয়ে চলছে হাজার হাজার যানবাহন। ফলে সড়কটিতে দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ই দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকছে যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন সড়কে চলাচলকারী লাখো যাত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের ৭৩ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে রাস্তার দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও উড়াল সড়ক ও ওভারপাস সড়কের লেনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। যার কারণে এখনো ১২ কিলোমিটার অংশে প্রতিদিনই লেগে থাকছে তীব্র যানজট। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যেতে কখনো কখনো তিন থেকে চার ঘণ্টা সময়ও লেগে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে টঙ্গী থেকে সড়কটির প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা থাকলেও বাকি অংশে তা নেই। করোনা মহামারী বিধিনিষেধ না থাকায় আগের কয়েকটি ঈদের তুলনায় কয়েক গুণ মানুষ এবার গ্রামের বাড়ির পথে ছুটবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু ঈদযাত্রায় তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন ওই পথে চলাচলকারীরা। তবে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কের কিছু অংশ এখনো ভাঙাচোরা। বাকি অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ঈদে যাতে যাত্রীরা দুর্ভোগে না পড়েন সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। ঈদের আগেই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মিল গেইট পার হয়ে চেরাগআলী মার্কেটের আগ পর্যন্ত রাস্তায় নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে উড়াল সেতুর পিলার। বিআরটি প্রকল্পের সড়কের ওপরে উড়াল সেতু এবং নিচে কার্পেটিং এখনো অনেক জায়গায় শেষ হয়নি। কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের তিন লেন কোথাও কোথাও দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এতে ওই পথে যানবাহন খুবই ধীর গতিতে চলছে। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি রাস্তার কারণে। তীব্র যানজট আর ধুলার কারণে দোকানে বসা দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার মাঝখানে নির্মাণসামগ্রী রেখে দেওয়ায় রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।’

এই সড়কে ঈদের সময় যানজট পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান আহমদ সরকার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক, লরি চলাচল করে। এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় সাধারণ মানুষ গ্রামমুখী হবে। এজন্য রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বাড়বে। আর গণপরিবহনেও মানুষের ব্যাপক চাপ পড়বে। রাস্তা ভালো না হলে যানজট থেকেই যাবে। যার কারণে এখন থেকেই মানুষ যানজটের শঙ্কার মধ্যে আছে।’

ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক জরিপে দেখা গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের আগে এই সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ঈদ উপলক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত ১০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হবে। যারা পালা করে দায়িত্ব পালন করবেন।’

এদিকে ঈদের আগেই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবেএমন আশার কথা শুনিয়েছেন বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের পুরো কাজের এখন পর্যন্ত ৭৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন ঈদযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়েই কাজের গতি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঈদের আগে সড়কে নিচের যে অংশে কার্পেটিং বাকি রয়েছে সেগুলো শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি ঈদের আগেই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত