গরিব সেজে সরকারি ঘর বাগালেন ৫ একর জমির মালিক

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ০২:০০ এএম

বসতবাড়ি ও আবাদি মিলিয়ে পাঁচ একর জমি। পৌরশহরে রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। বড় ছেলে একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। ছোট ছেলেও আরেকটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অথচ কাগজ-কলমে তিনি গরিব কৃষক।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা মাঘান-শিয়াধার ইউনিয়নের বেথাম গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বড় ছেলে মাহবুব রহমান আশিকের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারের দুর্যোগ সহনীয় ঘর ও ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যের ধান কাটার যন্ত্র (হারভেস্টার) বাগিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবকে গরিব বলা হলে তাদের গ্রামে আর কাউকে তারা সম্পদশালী মনে করেন না। হাবিরের নিজের নামে পাঁচ একর জমি ও মোহনগঞ্জ পৌরশহরের বসুন্ধরা মোড়ে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর রয়েছে। বড় ছেলে আশিক একটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক। ছোট ছেলে আরেকটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিতে কর্মরত। আশিক চাকরির পাশাপাশি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। মূলত তিনিই তদবির করে বাবার নামে দুর্যোগ সহনীয় ঘর ও হারভেস্টার মেশিন পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের শেষ দিকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৩৬ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। সম্পদের তথ্য গোপন করে বেথাম গ্রামের একমাত্র গৃহহীন হিসেবে হাবিবুর রহমান নিজের নামে একটি ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। সুবিধাভোগীর তালিকায় ১৪ নম্বরে রয়েছে তার নাম। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি কবুতা ব্র্যান্ডের হারভেস্টার হাবিব সরকার ঘোষিত ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাবিবুর রহমান ঘর ও হারভেস্টার নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার পাঁচ একর জমি রয়েছে। কৃষি ভর্তুকির কার্ডও আছে। ছেলেই সব ব্যবস্থা করেছে।’

একই ব্যক্তির ঘর ও হারভেস্টার পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময়ে আমি এখানে যোগ দেই। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর ও হারভেস্টার বরাদ্দে অনিয়ম পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত