নাচ, গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজন করা হয় পোস্টার প্রদর্শনী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চারুকলার প্রবেশ পথে আলপনা এঁকেছে ‘দাগ আর্ট স্টেশন’। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে আয়োজন করে চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান। আবৃত্তি সংগঠন ‘হরবোলা’ রাজধানীর পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পুরনো কলাভবনের মৃৎমঞ্চে ফানুস ওড়ানোসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে।
বিকেল ৫টায় শুরু হয় আবৃত্তি সংগঠন হরবোলার চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান। এতে হরবোলার সদস্যরা আবৃত্তি করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে আবৃত্তি পরিবেশন করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, আবু নাছের মানিক, পলি পারভীন ও সামিয়া রহমান লিসা। সংগীত পরিবেশন করেন রাজিন মুস্তাফা। হরবোলার পরিচালক মজুমদার বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতি বছর আমরা সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিসরে চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান করছি। বিগত কয়েক বছর ধরে সেটি বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা করেছি। কিন্তু করোনার জন্য গত দুই বছর তো সেভাবে করা সম্ভব হয়নি।’
সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চৈত্র সংক্রান্তির আয়োজন। মিলনায়তনের লবিতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। ৭টা ১৫ মিনিটে যন্ত্রসংগীত বাদনের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তির আবাহন করা হয়। হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়।
বাংলা মাসের সর্বশেষ দিনটিকে সংক্রান্তির দিন বলা হয়। এক সময় বাংলায় প্রতিটি ঋতুরই সংক্রান্তির দিনটি উৎসবের আমেজে পালন করত বাঙালি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সে উৎসব।
