২০ কোটি ডলার নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ০২:২৬ এএম

শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার ফেরত পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারেন্সি সোয়াপের বা মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া এই অর্থ আগামী জুনের মধ্যে দেশটির ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। তাছাড়া দেশটিকে দেওয়া এই অর্থ ঋণ না হওয়ায় খেলাপি হওয়ার বিষয়টিও আমলে নিতে হচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংককে।

এদিকে আগের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকলেও নতুন করে শ্রীলঙ্কার ২৫ কোটি ডলার ঋণ চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে এখনই চিন্তার কোনো কারণ তারা দেখছে না।

সংকটকবলিত শ্রীলঙ্কার মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৫১ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। গত মঙ্গলবার দেশটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ঋণের পুরোটাই খেলাপি থাকবে। কোনো দেশের বিদেশি ঋণ হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে ধার নেওয়া অর্থ।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি নন্দনাল বীরাসিঙ্গে বলেন, ‘এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছি যে ঋণ পরিশোধ চ্যালেঞ্জিং ও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো যে পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা হচ্ছে ঋণ পুনর্গঠন করা ও কঠিন খেলাপি হওয়া এড়ানো।’

শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী মেয়াদে ঋণ পরিশোধ বাতিল থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আইএমএফের কাছে সহায়তা চেয়েছে।

এই সংকটের শুরু হয়েছে বেশ কয়েক মাস আগেই।  বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে গত বছর শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হয়। ২০ কোটি ডলার ধার দিয়ে সে সময় বন্ধুপ্রতিম দেশটির পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

‘কারেন্সি সোয়াপ’ ব্যবস্থায় নেওয়া ওই ধার পরিশোধের কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে। লাইবর রেটের সঙ্গে ২ শতাংশ যোগ করে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে শ্রীলঙ্কা তা দিতে পারেনি। তাদের অনুরোধে ডলার ফেরত দেওয়ার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। তাছাড়া তাদেরকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তা ঋণ নয়। কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সময় রয়েছে শ্রীলঙ্কার হাতে।’

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গঠন এবং জরুরি তহবিল বরাদ্দের আবেদন নিয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগামী সপ্তাহে একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে শ্রীলঙ্কা। ভারত ও চীনের কাছেও সহায়তা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

শ্রীলঙ্কা গত কয়েক মাস ধরে সরকারি ঋণ সংকটে রয়েছে।  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় নাগরিকরা ওষুধ, গুঁড়োদুধ, রান্নার গ্যাস, কেরোসিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে পড়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দিয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে শত শত বেকারি। বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে সার্জারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা। প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাগজ না থাকায় নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকটি পত্রিকার ছাপা বন্ধ হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর ১৯ মার্চ মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ঢাকায় আসেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। সেই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ডব্লিউ ডি লক্ষণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ডলার চেয়ে চিঠি দেন। এরপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কার অনুকূলে ২০ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ১ ডলার ৮৬ দশমিক ২০ টাকা দরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত