ঢাকার উত্তরার আট নম্বর সেক্টরের পরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ডিজিটাল ভার্সনে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নজরে আসে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৮ নম্বর সেক্টর পল্লি বাজারের সামনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন উত্তরার এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান। এর আগে গত ৮ এপ্রিল দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ডিজিটাল ভার্সনে সচিত্র প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দিন যাবৎ উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর সরকারি আবাসিক এলাকায় রাস্তাসমূহে দূরপাল্লা ও স্বল্প পাল্লার গাড়ির অবৈধ ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসায় আবাসিক এলাকাটি মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার দু-পাশে অবৈধ গ্যারেজকে কেন্দ্র করে স্থানটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়।
এ ছাড়া বাসের হর্নে ভয়ানক শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে বাসিন্দারা। রাস্তার দুপাশে গাড়ি রাখায় রাস্তাটিও যানচলাচলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি রাখায় কোয়ার্টারের সামনে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সরকারি আবাসিক এলাকায় সিটি করপোরেশনের রাস্তাটিকে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনেক বার অনুরোধ জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো কোয়ার্টারের লোকজনকে সংশ্লিষ্টরা নানাভাবে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে উত্তরা সরকারি অফিসার্স বনবীথি, পল্লী কানন, সিআইডি কোয়ার্টার্স ৮ নং সেক্টরের বিভিন্ন সরকারি কোয়ার্টারের প্রতিনিধিগণ মতবিনিময় করেন।
সরকারি আবাসিক এলাকাটি অবৈধভাবে বাস ডিপোতে পরিণত করায় এলাকার বসবাসের পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান।
তিনি বলেন, এই সমস্যা নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন আমরা দেখেছি। আপনাদের এই সমস্যাগুলো ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি আবাসিক এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করার অধিকার কারও নেই। এ সময় সংশ্লিষ্ট বাস মালিক ও কাউন্টারসমূহকে সরকারি আবাসিক এলাকাকে পার্কিং জোন হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা ব্যবসা করবেন কিন্তু সেক্টরের আবাসিক এলাকার মানুষের নিরাপত্তা কিংবা তাদের বসবাসের পরিবেশ বিনষ্ট করার অধিকার কারও নেই। তিনি আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের আবাসিক এলাকায় অবৈধ গ্যারেজ উচ্ছেদের সহায়তা কামনা করেন।
উল্লেখ্য এই আবাসিক এলাকাটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, ব্যাংক ও বিমাসহ স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪/১৫ শ কর্মকর্তা বসবাস করেন।
প্রস্তাবিত ৮ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক ম শেফায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পল্লি কানুন কোয়ার্টার প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, বনবীথি কোয়ার্টার প্রতিনিধি মো. তৌহিদুল রহমান, সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলতাফুর রহমান ও মোহাম্মদ শাজাহান, সাধারণ বিমা করপোরেশন কোয়ার্টার প্রতিনিধি নাজমুল হক মজুমদারসহ আরও অনেকে।
