শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের খামার দেখাশোনায় দপ্তরি-দারোয়ান

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২২, ১১:১৬ পিএম

দিনভর চষে বেড়ায় স্কুলমাঠে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ছাগলের পাল এনে রাখা হয় শ্রেণিকক্ষে। শুধু ছাগল নয় আছে হাঁস-মুরগিও! বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে এভাবেই রীতিমতো খামার বানিয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। আর অধ্যক্ষ এই খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দপ্তরি-দারোয়ানকে।

স্থানীয়রা জানান, কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ২০টির বেশি ছাগল পালন করেন। এগুলোকে রাতে প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে বেঁধে রাখা হয়, আর দিনে ছেড়ে দেওয়া হয় মাঠে। দিনভর ছাগলগুলো চষে বেড়ায় স্কুল-কলেজের মাঠে। যখন-তখন ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ছাগলের বর্জ্যে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দূষিত থাকে সবসময়। ছাগলগুলোকে যে কক্ষে রাখা হয় তার আশপাশে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়। প্রতিষ্ঠানের দারোয়ান ও দপ্তরিকে দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করান তিনি। এ নিয়ে ছাত্রী ও অভিভাবকরা চরম বিরক্ত হলেও অধ্যক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সখ্য থাকার কারণে এ নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।

ছাগল পালনের কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ছাগলগুলোকে রাখা হয়। এগুলো কারও ক্ষতি করছে না। এছাড়া এ নিয়ে কখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। ছেলের শখ পূরণ করতে ছাগলগুলো পালন করছি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা আলম সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে ছাগল পালন কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। ছেলের শখ পূরণে তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে পারেন না। তার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। সেখানে উল্টো তিনি নিজে পরিবেশ নষ্ট করছেন এটা দুঃখজনক। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের কক্ষে ছাগল পালন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো কিছুই করা যাবে না। বিষয়টা নিয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত