ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘পট পরিবর্তনের’ পর দলের জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। তার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন পর বৃহত্তর কলেবরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। এই সভাকে কেন্দ্র করে জেলা নেতাদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে ব্যানার, বিলবোর্ড তৈরি করেছেন, যেগুলো শোভা পাচ্ছে শহরের আনাচকানাচে। কেউ কেউ নিজেকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী উল্লেখ করে বিলবোর্ড টানিয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হোটেল রাফেলস ইন-এ এই বর্ধিত সভা হবে। এই সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতাদের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১২ মে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আজকের বর্ধিত সভা হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সবুল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য ফারুক খান। অন্যদের মধ্যে থাকছেন সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।
এরই মধ্যে বর্ধিত সভার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। বেলা ২টার পরে এই সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। সেই সম্মেলনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন । পরে ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। ফরিদপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সদর আসনের সাংসদ খন্দকার মোশাররফের প্রভাব কমে আসার পর দুই বছর ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে নেতাদের মধ্যে গ্রুপিং, লবিং ও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি একাধিক ধারায় বিভক্ত। অবশ্য এখন দুটি অংশ সক্রিয়। একটি হলো কাজী জাফরউল্যাহ সমর্থিত অংশ এবং অন্যটি আব্দুর রহমান ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত অংশ ।
সম্মেলন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা নানা মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেন মনে করেন, এই সম্মেলনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং মাঠে রাজনীতিতে যারা পরীক্ষিত তাদের কমিটিতে রাখতে হবে। এতে দল উপকৃত হবে। শক্তিশালী হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত।
বর্ধিত সভার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি বড় দলের সামান্য গ্রুপিং থাকতেই পারে, তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে কেউ সেটা দেখানোর দুঃসাহস দেখাবেন নাÑ এমনটি প্রত্যাশা করি।’ তিনি বলেন, এই সভায় জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দলের সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরতে পারবেন, এমনকি দল চালাতে যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারবেন।
