বাইডেনের দূত আসছেন আজ

মানবাধিকার রিপোর্টের অসংগতি তুলে ধরবে ঢাকা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হোসাইন আজ রবিবার চার দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরই দেশটির কোনো প্রতিনিধির এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদনের বিষয়ে অসংগতিগুলো তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে প্রকাশিত ৭৪ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশ ও বিষয়বস্তুতে অসংগতিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ; যা বাইডেনের বিশেষ দূতের কাছে তুলে ধরবে ঢাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চার দিনের এ সফরে বিশেষ করে আইন ও ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠককে গুরুত্ব দিচ্ছেন বাইডেনের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হোসাইন। এ ছাড়া মন্ত্রী-সচিব, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারের অন্যান্য ডজনখানেক প্রতিনিধির সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। তার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে একটি বক্তৃতার আয়োজন করা হচ্ছে; যেখানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিরা ছাড়াও কূটনীতিক ও মিডিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

গতকাল শনিবার এবিসি নিউজকে রাশাদ হোসাইন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সর্বত্র সকল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করে। হোয়াইট হাউস বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, একটি রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা নির্যাতিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এমন যেকোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট যে, নৃশংসতা যাতে না ঘটে তার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এ কাজের গভীর দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো এটি আমাদের দায়িত্ব, যা আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে নিই।’

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা; গুম; সরকারি এজেন্টদের দ্বারা নিষ্ঠুর এবং অবমাননাকর আচরণ; নির্যাতন; মামলা; প্রাণনাশের হুমকি; নির্বিচারে আটক; রাজনৈতিক কারণে বন্দি; উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিশোধ; বিচার বিভাগকে চাপে রাখা, স্বেচ্ছাচারী বা বেআইনি হস্তক্ষেপ; একজনের অপরাধে পরিবারের অন্য সদস্যকে হয়রানি ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন। এ ছাড়া অযৌক্তিক গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ আরোপসহ মতপ্রকাশ এবং মিডিয়ার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ,  ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও কিছু অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বা আদিবাসীদের লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকি; লেসবিয়ান, সমকামী, ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সুরক্ষার পথে প্রতিবন্ধক আইনের অস্তিত্ব বা ব্যবহার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে এসব বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূতকে ব্রিফ করা হবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। তারা জানিয়েছে, বিশেষ করে সমকামিতার বৈধতা প্রশ্নে অবস্থান পাল্টাবে না বাংলাদেশ। এমনকি এ ইস্যুতে যতই চাপ আসুক না কেন, তা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি ঢাকার তরফে রয়েছে। জনগণের বিরুদ্ধে যায়, এমন কিছু যে ঢাকার তরফে করা একদমই সম্ভব হবে নাসেটাও তুলে ধরা হবে।

এর আগে বেশকিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্টে সমকামিতার বৈধতা নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বলা হয়েছে। আপনি একটি মুসলিম দেশ দেখান, যেখানে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী এবং আমার ধারণা এটা সব ধর্মের পরিপন্থী।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত (অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ) হওয়ার আগে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অংশীদারিত্ব এবং গ্লোবাল এনগেজমেন্ট ডিরেক্টরেটের পরিচালক ছিলেন রাশাদ হোসাইন। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনে (ওআইসি) কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কৌশলগত সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রাশাদ হোসাইন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত