সুরজী বেগম (৬০) থাকেন পুরান ঢাকার লালবাগে। রোজা রেখে বাসাবাড়ির কাজ শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাজির হন লালবাগ হরনাথ ঘোষ সড়কে। এখানে ‘নবীনের মেহমানখানায়’ প্রতিদিন তার মতো আট শতাধিক মানুষের জন্য বিনামূল্যের ইফতারি দেয় নবীন বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
সুরজী বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি রোজায় নবীনের মেহমানখানায় পোলাও-মাংসসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হয়। এজন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ইফতার করি। সাহরির জন্য দুধও দেওয়া হয়।’
আয়োজকরা জানায়, পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী এনামুল হাসান নবীনের উদ্যোগে তিন বছর ধরে লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচরসহ আশেপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে ইফতারি দেওয়া হচ্ছে। রোজা শুরুর আগেই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আট শতাধিক সুবিধাবঞ্চিতকে কার্ড দেন। পরে এ কার্ড নিয়ে এলে তাকে খাবার দেওয়া হয়। কেউ আসতে পারছেন না জানালে তার বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। মেহমানখানায় বৈচিত্র্য আনার জন্য একেক দিন একেক রকম খাবার থাকে। পোলাও, মুরগি, গরুর মাংস, রুই মাছ, দুধ, খেজুর, তরমুজ, রুটিসহ বিভিন্ন রকম খাবার দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতারের এক ঘণ্টা আগেই সড়কের দুই দিকে দীর্ঘ লাইন। সবাই অপেক্ষা করছেন। ইফতারের সময় আসার পর একজন করে এসে কার্ড দেখিয়ে স্বাক্ষর দিয়ে তা নিয়ে যাচ্ছেন। মেহমান হিসেবে সম্মানের সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে সবাইকে খাবার নিতে দেখা যায়।
হরনাথ ঘোষ এলাকার বাসিন্দারা জানান, নবীনের মতো ব্যবসায়ীরা সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ালে সমাজের চিত্র বদলে যেত। গত রমজানেও মেহমানখানা থেকে ইফতারি দেওয়া হয়। এবারও ঠিকঠাকভাবেই সবকিছু চলছে।
ইফতারি নিতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘নবীন আমাদের অনেক উপকার করে। তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও পুরান ঢাকার লোকজন। এলাকার গরিব-দুঃখী বিপদে পড়ে তার কাছে গেলে সাধ্যমতো সাহায্য করেন। ঈদের দিনও অনেকের বাজার করে দেন নবীন।’
নবীন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান নবীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ব্যবসার লাভের অংশ দিয়ে প্রতি রমজানে ইফতারি দিই। আমার মেহমানদের আগেই কার্ড দিই। তারা কার্ড দেখিয়ে খাবার নেন। কেউ আসতে পারছেন না জানালে, স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছুর যে দাম, তাতে মেহমানখানা চালাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বিবেকের তাড়না থেকেই রমজানে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াই। আমার মতো সব ব্যবসায়ী তাদের পাশে দাঁড়ালে কিছুটা হলেও এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বস্তি পেতেন।’
