নাটেশ্বরে অষ্টকোনাকৃতি স্তূপ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৩৬ এএম

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে এবার আবিষ্কার হয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন অষ্টকোনাকৃতির স্তূপ, সীমানাপ্রাচীর, স্তূপ হলঘর বা মণ্ডপ ও স্তূপের ইটের দেয়াল। সদ্য আবিষ্কৃত অষ্টকোনাকৃতি এ স্তূপটি নাটেশ্বর দেউলের পঞ্চম স্তূপ। গতকাল শনিবার নাটেশ্বর দেউলে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

নাটেশ্বর দেউলে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন প্রত্ন উৎখননের কাজ শুরু করে ২০১৩ সালে। এর আগে খননের মধ্য দিয়ে অষ্টকোনাকৃতি ৪টি স্তূপ আবিষ্কৃত হয়।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে নাটেশ্বর দেউলে ২০২১-২২ সালের প্রত্নখননের তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ড. সুফি মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সঞ্চালনায়।

নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, নাটেশ্বর দেউলে এবারের আবিষ্কার বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পঞ্চম স্তূপের আদি পর্যায়ের অষ্টকোনাকৃতি স্তূপের দেয়ালের গাঁথুনি এখনো অপূর্ব মসৃণ, মনে হয় যেন আধুনিক সিরামিক ইটের গাঁথুনি। দেয়ালের ইট, পরিমাপ, গাঁথুনি সেও আবার কাদামাটির মর্টার; তবুও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে। ৭.৪ গুণ ৭.৪ পরিমাপের একটা বর্গাকার ভিত্তির ওপর উলম্বভাবে ইট স্থাপন করে অনেকটা গরুর গাড়ির চাকার মতো ধর্মচক্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে আবিষ্কৃত প্রথম ও চতুর্থ অষ্টকোনাকৃতির স্তূপে আদি পর্যায়ে ধর্মচক্রের আভাস দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ের অষ্টকোনাকৃতির স্তূপ দিয়ে আবৃত থাকায় সে রহস্য উন্মোচিত হয়নি। সদ্য আবিষ্কৃত পঞ্চম অষ্টকোনাকৃতি স্তূপের ধর্মচক্রটিতে ৮টি স্পোক রয়েছে। প্রতিটি স্পোকের সংখ্যা বৌদ্ধধর্মে প্রতীকী অর্থে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরেট ভিত্তিভূমিতে আট স্পোক বিশিষ্ট ধর্মচক্রের ওপর হাজার বছরের প্রাচীন হলঘর বা মন্ডপসহ অষ্টকোনাকৃতির স্তূপের উপস্থিতি এর আগে বাংলাদেশ কেন ভারতবর্ষের অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিক্রমপুরে অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি। রঘুরামপুর থেকে নাটেশ্বর প্রত্নতত্ত্ব ভূমি। ২০১০ সালে রঘুরামপুরে খনন করেছি। ২০১৩ সালে নাটেশ্বরে খনন শুরু করি। এবার সর্বশেষ খননে অষ্টাকোনাকৃতির পঞ্চম স্তূপ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী দুই বছর এখানে খনন চলবে। এরপর আবিষ্কৃত নির্দশন সংরক্ষণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত