পটুয়াখালী ও নীলফামারীতে পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই শিশু এবং নীলফামারী জেলা সদরে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মারা যাওয়া দুই শিশু হলোÑ টিয়াখালীর রজপাড়া গ্রামের রাজিব সরদারের ছেলে তাসিন (২) এবং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের মেয়ে সাদিয়াতুন (৪)।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, খেলতে গিয়ে সবার অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তাসিন ও সাদিয়াতুন। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও দেখতে না পেয়ে পুকুরপাড়ে গেলে ভাসমান অবস্থায় তাসিন ও সাদিয়াতুনকে দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসীম বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নীলফামারীতে পানিতে ডুবে মাহিন হোসেন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম বন্দরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাহিন ওই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
এলাকাবাসী জানায়, বাড়িতে মা মনুফা বেগম কাজে ব্যস্ত থাকায় একা খেলছিল শিশু মাহিন। এক ফাঁকে মায়ের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান জানান, উদ্ধারের পর মাহিনকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুশফিকুর রহিম। তিনি জানান, শিশুটির বাবা ঢাকায় রিকশা চালান।
এদিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর পাইনশাইল এলাকায় একটি খালের পানিতে ডুবে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আরিফুর রহমান (২০)। গতকাল শনিবার সকালে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। দুপুর ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করে। তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানা এলাকার আলেব উদ্দিনের ছেলে। তারা পরিবারসহ গাজীপুর সদর উপজেলার পাইনশাইল এলাকায় বসবাস করত।
জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. তাশারফ হোসেন জানান, শনিবার সকালে পাইনশাইল এলাকায় হাঁটু পানি থাকা একটি খাল হেঁটে পার হচ্ছিল আরিফুর রহমান। ওই সময় একটি ট্রাকও খালের পানির ওপর দিয়ে পার হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সেখানে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় এবং ভয় পেয়ে আরিফুর রহমান পানিতে তলিয়ে যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করে এলাকাবাসী তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
