অনর্থক কথা ও কাজে না জড়ানো

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৩ এএম

পবিত্র রমজান শুধুমাত্র একটি মৌসুমি ইবাদত নয়; বরং বছরব্যাপী ইবাদত-বন্দেগির অনুশীলনের মাস। রমজানে মানুষ যা ইবাদত করে তার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া বহাল থাকে সারা বছর। তাই রমজানের ইবাদতে গতি আনতে, ইবাদতে একনিষ্ঠতা এবং তাকওয়ার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে অনর্থক বিষয়াদি থেকে বিরত থাকা।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সফল মুমিনের পরিচয় দিতে গিয়ে এ বৈশিষ্ট্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, ‘যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে।’ সুরা মুমিনুন : ৩

এ আয়াতে ব্যাখ্যায় ইসলামি স্কলাররা বলেন, যেসব কথায় বা কাজে কোনো লাভ হয় না, যেগুলোর পরিণাম কল্যাণকর নয়, যেগুলোর আসলে কোনো প্রয়োজন নেই, যেগুলোর উদ্দেশ্যও ভালো নয় সেগুলোর সবই ‘বাজে’ কাজের অন্তর্ভুক্ত। যাতে কোনো দ্বীনি উপকার নেই বরং ক্ষতি বিদ্যমান। এ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন অনর্থক বিষয়াদি ত্যাগ করে, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে পারে।’ সুনানে তিরমিজি : ২৩১৭

অর্থাৎ যে কাজে আখেরাতের কোনো ফায়দা রয়েছে অথবা দুনিয়ার কোনো বৈধ ফায়দা রয়েছে তা করবে। কিন্তু যে কথা কাজে দুনিয়া আখেরাতের কোনো ফায়দা নেই তা করবে না। আর যে কথা কাজে একেবারেই কোনো ফায়দা নেই, উপরন্তু তাতে ক্ষতি রয়েছে তা অবশ্যই পরিহার করবে, যাতে দুনিয়া আখেরাতের কোনো লোকসান না হয়।

এ প্রসঙ্গে সুরা ফুরকানের অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, (আল্লাহর প্রিয় বান্দারা) অসার কার্যকলাপের সম্মুখীন হলে আপন মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে। অর্থাৎ মোত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা জেনে শুনে আজে বাজে কথা ও কাজ দেখতে বা শুনতে চায় না, অথবা তাতে অংশগ্রহণ করে না। আর যদি কখনো তাদের পথে এমন কোনো জিনিস এসে যায়, তাহলে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না; বরং তারা এমনভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে যেমন একজন অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি কোনো ময়লার স্তূপ অতিক্রম করে চলে যায়। ফাতহুল কাদির, কুরতুবি

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, মানুষের যাবতীয় কাজ তিন প্রকার। এক. এমন কাজ যাতে দ্বীন-দুনিয়ার কোনো ফায়েদা আছে। দুই. যাতে দুনিয়া আখেরাতের কোনো না কোনো লোকসান রয়েছে। যেমন কোনো গোনাহের কাজ বা জানমালের ক্ষতি। তিন. যাতে দুনিয়া-আখেরাত এবং দ্বীনের কোনো লাভ নেই আবার ক্ষতিও নেই।

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, যদি মানুষ চিন্তা করে, তাহলে বুঝবে যে, তৃতীয় প্রকার কাজেও লোকসান রয়েছে। কেননা, সে যতটুকু সময় অনর্থক কাজে ব্যয় করল, যদি তা ভালো কাজে ব্যয় করত তাহলে না জানি কত ফায়দা অর্জিত হতো।

মানুষের জীবন অত্যন্ত দামি। তাই নবী করিম (সা.) বিভিন্ন হাদিসে জীবনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করেছেন। সামান্য সময় চিন্তা করলে বুঝে আসবে যে, জীবনের মুহূর্তগুলো কত মূল্যবান। এর সঠিক মূল্য তো বুঝে আসবে আখেরাতে, যখন মানুষের ইচ্ছাধীন কোনো কিছু থাকবে না; চাইলেও একটি নেকি অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই যতদিন দেহে প্রাণ আছে, মনে ইচ্ছাশক্তি আছে, ততদিন সুযোগ আছে নেক আমলের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার। পবিত্র রমজানে আল্লাহ নির্দেশিত পন্থায় তার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা হোক সবার অঙ্গীকার।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিসর

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত