ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীন বিভিন্ন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে কচ্ছপগতিতে। নয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে দু-একটির কাজ চললেও গতি খুবই ধীর। বাকি কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে কাজগুলো বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদাররা। যদিও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ হওয়া টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ কাজগুলো চালু রাখতে ঠিকাদারদের কয়েক দফায় চিঠি দিলেও কোনো সুফল মিলছে না।
ঠিকাদাররা বলছেন, রড, সিমেন্ট ও পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বাজেটে তারা কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। নির্ধারিত দরে কাজ শেষ করলে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। নির্মাণসামগ্রীর দাম না কমলে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে কাজ বন্ধ রেখে আরও বেশি মুনাফা করতে চান ঠিকাদাররা। আর রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা বিবেচনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, মেগা প্রকল্পের অধীনে ক্যাম্পাসে নয়টি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে একটি ভবনের কাজ চলছে। অন্য দুটি ভবনে কয়েকজন শ্রমিক কোনোরকমে কাজ চালু রেখেছেন। বাকি ছয়টি ভবনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদাররা। এসব ভবনের মধ্যে পাঁচটি ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হল, দুটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার এবং একটি করে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। ভবনগুলো নির্মাণে ৪০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১০টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকাজের মধ্যে তিনটি ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি সাতটির মধ্যে একটি ভবনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যগুলো চলছে ঢিমেতালে। শেষ তিন-চার মাস ধরে এসব কাজ বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রথম তিন বছরে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ছাড়া অন্য কোনো কাজ শুরু করতে পারেনি কর্র্তৃপক্ষ। গত বছরের শেষে এসে দরপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ভবনগুলো নির্মাণে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দশতলা ভবনগুলোর একটিতে মাত্র ১০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকিগুলোর উল্লেখ করার মতো কোনো কাজ হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঢিলেমি ও কর্র্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এর আগেও দুই ধাপে বরাদ্দ ফেরত দিতে হয়েছে কর্র্তৃপক্ষকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুন্সি সহিদ উদ্দিন মো. তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজ চালু রাখতে দফায় দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের কাজে ফেরাতে পারছি না। আমরা আর কিছুদিন দেখার পর কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।’
কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামও। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে ঠিকাদাররা কাজ করছেন না। আমরা আরও কিছুদিন দেখব। তারপর কাজ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’
