শিশুদের ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। বড়দের মতো শিশুদেরও দুশ্চিন্তা, ওজন বৃদ্ধি, কম শারীরিক পরিশ্রম, বংশগত ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবন পদ্ধতির পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে ডায়াবেটিস হয়। বেশিরভাগ শিশু শৈশবে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও অনেক। শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একক প্রধান কারণ অতিরিক্ত ওজন। যখন শিশুর ওজন খুব বেশি বেড়ে যায়, তখন তাদের ডায়াবেটিস আক্রান্তের আশঙ্কা দ্বিগুণ হয়।
শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস হলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে কারণ ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়। টাইপ-১ ডায়াবেটিস ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেও হতে পারে। অন্যদিকে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে, অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিতে কোনো ব্যাঘাত হয় না। তবে শরীর এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয় না বা প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (ওহংঁষরহজবংরংঃধহপব)-এর কারণে এ সমস্যা হয়। যখন গ্লুকোজ কোষগুলোতে প্রবেশ করতে পারে না এবং শক্তি সরবরাহ করার সক্ষমতা কমে যায়। এ কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, ফলে পর্যায়ক্রমে অগ্ন্যাশয় আরও বেশি বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে সচেষ্ট হয়। এক সময় অগ্ন্যাশয় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে ধীরে ধীরে অক্ষম হয়ে পড়ে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য শিশুর ঝুঁকির কারণ হলো
পরিবারের কারও টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে।
মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসসহ (গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস) জন্ম নেওয়া শিশুর ।
যদি শিশুর ওজন বেশি হয় এবং ওপরের দুটি ঝুঁকির কারণ থাকে।
লক্ষণ : রক্তে উচ্চমাত্রার শর্করার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং খুব তৃষ্ণার্ত থাকে বলে প্রচুর পানি পান করতে হয়। ক্লান্তি বা অবসাদ থাকে। কারণ শরীর শক্তির জন্য গ্লুকোজ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। শিশুর ক্ষুধা বাড়ে। ওজন কমতে থাকে।
চিকিৎসা : শিশুর টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে কিনা নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হয়। কারণ ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি ডায়াবেটিসের ধরনের কারণে ভিন্ন। ১৮ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের জন্য রক্তে শর্করার হ্রাসকারী ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। লক্ষণ হ্রাস করার জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ জরুরি। শিশুর যাতে স্বাভাবিকভাবে তার শারীরিক, মানসিক, সংবেদনশীলতা বজায় রেখে সামাজিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ হয় সেদিক লক্ষ রাখতে হবে।
শিশুর রক্তের শর্করার মাত্রা যতটা সম্ভব লক্ষ্য সীমার মধ্যে রাখতে হবে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু-কিশোররা তাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্পের ওপর নির্ভর করে। শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং প্রথম দিকে লক্ষণই থাকে না। তাই নিয়মিত চেকআপের ওপর রাখতে হবে।
প্রতিরোধ : যেসব শিশুর স্থূলতা বা ওজন বেশি বিশেষ করে যদি তাদের পেটে চর্বি বেশি থাকে তাদের ইনসুলিন অকার্যকর (Insulin Resistance) হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন প্রতিরোধ প্রধান ঝুঁকির কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘন ঘন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাচ্চার প্রতিদিনের খাবার থেকে মিষ্টি, চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দিন। শিশুর যাতে কোনো রকম আঘাত বা কাটাছেঁড়া না হয় সে ব্যাপারে সাবধান থাকুন।
