পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার

আত্মীয়দের কাছে স্বর্ণালংকার রেখে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৭:০২ এএম

আসছে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া আত্মীয়দের কাছে স্বর্ণালংকার রেখে নগরবাসীকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে মার্চ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঈদের সময় প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নগরবাসীর অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় তাদের বাসাবাড়ি ফাঁকা থাকে। তখন যেন কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে, সেজন্য বাসাবাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ রোজা শেষ হয়ে গেছে। এখন মার্কেটগুলোতে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকবে। এ সময় মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি বা টানা পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এজন্য থানার টহল পার্টিকে আরও সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল টিম করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু পাহারা দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না, অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে।’

ট্রাফিক বিভাগের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে যানজটের চাপ বেড়ে যায়। এজন্য প্রয়োজনে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।’

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। তবে ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করে প্রথম হয়েছে উত্তরা বিভাগ। ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী।

নয়টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আবু আশরাফ সিদ্দিকী। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজিয়া ইসলাম। মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আবু আশরাফ সিদ্দিকী। চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান এবং অজ্ঞান/মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের ধানম-ি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফজলে এলাহী।

প্রতি মাসে ঘটে যাওয়া অপরাধ বিশ্লেষণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল সম্পর্কিত নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের কর্মোদ্দীপনা বাড়াতে প্রতি মাসের কার্যক্রম পয়েন্ট আকারে যোগ করে পরবর্তী মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুরস্কৃত করে থাকেন ডিএমপি কমিশনার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত