বাংলাদেশের হয়ে ওই ম্যাচে ১১ জনেরই অভিষেক হয়েছিল। এর ভেতরও অন্যরকম প্রথম হয়ে আছেন সামিউর রহমান সামি। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক প্রান্ত থেকে বোলিং ওপেন করেছিলেন তিনি। কাল সেই গৌরবময় স্মৃতি নিয়েই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন সামি। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে ৬৮ বছর বয়েসে মারা গেছেন এই সাবেক পেসার।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল, সঙ্গে ডিমেনশিয়ায়ও (স্মৃতিভ্রষ্টতা) ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছিলেন। তবে ক্রিকেট শুরুর যুগে দেশের হয়ে ওইটুকু অবদানই বা কম কিসে। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচের দিকে নেমে দ্রুত রান তুলতেন সামিউর। ১৯৮২ সালে আইসিসি ট্রফির বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন। ওই আসরে পেয়েছিলেন ৭ উইকেট। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডের একাদশে ছিলেন এই পেসার। ইমরান খানের পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ ওভারে ১ মেডেনসহ দেন মাত্র ১৫ রান। ছয় দিন পর ক্যান্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচে ৩ ওভারে দিয়েছিলেন ১৫ রান। তার ভাই ইউসুফ বাবুও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার। দুই ভাই একসঙ্গে খেলেছেন বাংলাদেশ দলে।
খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলেন সামিউর। লম্বা সময় ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট এ, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১১১টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আম্পায়ার হিসেবেও সব মিলিয়ে ২৮ ম্যাচ পরিচালনা করেন। গুণী এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
