বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। আমরা ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছি যে কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী ও সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের যে টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে, টেলিফোনে যে কথাগুলো হয়েছে, সেই কথাগুলোর মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম এসেছে। সেই কথাগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের নাম এসেছে। আমরা জানতে চাই, কথাগুলোর অর্থ কী? সেই কথাগুলোতে যা বলা হয়েছে তার তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে আনা হোক।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, যারা জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এবং তারাই হচ্ছে পাকিস্তানের অনুচর। এখন আপনারা যা করছেন তা পাকিস্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং আরও বেশি করছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যেভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল, মানুষকে হত্যা করেছিল, জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, আজকে একইভাবে আপনারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন এবং দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে একেবারে সয়লাভ করে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা দেশকে ধ্বংস করছে, যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, যারা আজকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিলীন করে দিচ্ছে, তাদের আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অবশ্যই পরাজিত করব। আমাদের জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। যারা কথায় কথায় গুলি করে, কথায় কথায় জেলে নিয়ে যায়, কথায় কথায় গুম করে, যারা হত্যা করে, তাদের বিরুদ্ধে যদি দাঁড়াতে হয় তাহলে আমাদের সর্বশক্তি নিয়ে জাতীয় ঐক্যে সৃষ্টি করে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় ঐকের জন্য আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করেছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এর মাধ্যমে ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আমরা রক্ষা করি।’
তিনি বলেন, আজকে এমন একটি সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে বসে আছে যে তারা এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং মানুষের অধিকারগুলোকে তারা সম্পূর্ণভাবে হরণ করে নিয়েছে।
