নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যেখানে বিএনপির কর্মসূচিতে মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ হাজির হয়। সেখানে নিউমার্কেটের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে প্রায় তিন ঘণ্টা নিষ্ক্রিয় থাকা রহস্যজনক।
গতকাল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার’ বিতরণের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গত সোমবার রাতের পর গত মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেট এলাকার দোকানমালিক ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সেখানে যায়। এ নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘স্ট্র্যাটেজিক কারণে পুলিশ সামনে আসেনি।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোন কারণে আপনারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন? দেশের মানুষ নিহত হবে সে কারণে? একটি সমস্যা তৈরি হবে সে কারণে?’
ফখরুল বলেন, ‘একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের কাজ হচ্ছে টিকে থাকতে মানুষের মনের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করা। তাদের ক্ষমতায় থাকার বড় উৎস গোটা সমাজে, গোটা রাষ্ট্রে জনগণের মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার করা। এই ব্যর্থ-অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার সেভাবেই এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুম-খুনের প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। গুম হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আন্দোলন করেছে। অনেকে হিউম্যান রাইটস কমিশনে জেনেভা পর্যন্ত গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেভাবে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা করতে পারেনি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এটা প্রমাণিত সত্য যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। প্রমাণিত যে বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্র চলছে, স্বৈরাচার চলছে। অবৈধ সরকার জবরদখল করে ক্ষমতায় বসে আছে। এখন সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার।’
অনুষ্ঠানে খুন, গুমের শিকার নেতাদের মধ্যে ৬টি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজয় কান্তি সরকার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
