আখেরাতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০২:০১ এএম

রোজাপালন একটি দৈহিক ও আত্মিক ইবাদত। দিনের একটি দীর্ঘসময় দৈহিক প্রয়োজন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে সহিষ্ণুতার প্রশিক্ষণ দেয় রোজা। শুধু আল্লাহর ভয়ে লোকচক্ষুর আড়ালেও পানাহার থেকে বিরত থাকে একজন রোজাদার। এভাবে শারীরিক কু-প্রবৃত্তির ক্ষমতা দুর্বল হয়ে আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। দুনিয়ায় বিলাসিতার মোহ কমে আখেরাতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ ঘটে। এভাবে রোজা একজন মানুষকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী নৈতিকতাসম্পন্ন মুমিন হিসেবে গড়ে তোলে। প্রকৃত মুমিনের যে প্রধান নৈতিক গুণাবলি পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমানত রক্ষা করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকারের প্রতি যত্নবান।’ সুরা মুমিনুন : ৮

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তোমার কাছে আমানত রেখেছে, তার আমানত তাকে ফেরত দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার আমানতের খেয়ানত করেছে, তুমি তার আমানত খেয়ানত করো না।’ সুনানে আবু দাউদ : ৩/৩৫৩৫

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোরআনে কারিমে আমানতের বিষয়টিকে ‘আমানাত’ বহুবচনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কারও কাছে অপর কারও বস্তু কিংবা কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখাটাই শুধু আমানত নয়, যাকে সাধারণত আমানত বলে অভিহিত করা হয়। বরং আল্লাহর হক (শরিয়তের যাবতীয় বিধান) ও বান্দার হক সম্পর্কিত সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

মুত্তাকি মুমিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হচ্ছে, অঙ্গীকার রক্ষা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করো।’ সুরা মায়িদা : ১

ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি। ১. কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, ৩. তার কাছে আমানত রাখা হলে সে খেয়ানত করে।’ সহিহ বোখারি : ৩৩

এ ছাড়া প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, মহানুভবতা, সহিষ্ণুতা, ক্ষমাশীলতা প্রভৃতি নৈতিক গুণে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক। রমজান মাসে মানুষের কথাবার্তা, আচার-আচরণ, লেনদেন ও কাজ-কারবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই গুণাবলি অর্জনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি (রোজা রেখে) পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ সহিহ বোখারি : ১৯০৩

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা হচ্ছে (মানুষের জন্য দোজখের আগুন থেকে আত্মরক্ষার) ঢালস্বরূপ। সুতরাং যখন তোমাদের কারও রোজার দিন আসে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অনর্থক আওয়াজ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, সে যেন তাকে বলে দেয়, আমি একজন রোজাদার।’ সহিহ বোখারি : ১৮৯৪

এভাবে দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসংশোধনের পথ সুগম হয় এবং কলুষমুক্ত অনাবিল সমাজ লাভের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিসর

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত