বাবার কোলে শিশুকে গুলি

৩ দিন আগেই অস্ত্র কিনেছিল রিমন : র‌্যাব

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০২:১৫ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাবার কোলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তাসপিয়া আক্তার জান্নাত (৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন (২৩) ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে জেলার সুবর্ণচরের চরক্লার্কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলো সোহেল উদ্দিন ওরফে মহিন (২৪), সুজন (২৬), নাইমুল ইসলাম (২১) ও আকবর হোসেন (২৬)।

র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রিমন শিশু তাসপিয়া ও তার বাবা মাওলানা আবু জাহেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছে। সে পাঁচটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে অপরাধ করে বেড়াত।

গতকাল বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্প কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, ১৩ এপ্রিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মালেকা বাপের দোকান এলাকায় মাটি কাটাসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা আবু জাহের এবং তার কোলে থাকা শিশুকন্যা তাসপিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে বাবা-মেয়ে দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায় তাসপিয়া। এ ঘটনায় পরদিন ১৪ এপ্রিল তাসপিয়ার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বাদশা, রিমনসহ ১৭ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের নামে মামলা করেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রিমন যে অস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল, তা ঘটনার তিন দিন আগে ২১ হাজার টাকায় কেনে। ঘটনার পর রিমন ও তার সহযোগীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলার সুবর্ণচরের চরক্লার্কে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে রিমনরা আত্মসমর্পণ করে। তাদের কাছ থেকে ১১ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পাইপগান জব্দ করা হয়।’

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার রিমনের বিরুদ্ধে আগের আটটি মামলার মধ্যে পাঁচটিতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়া তার সহযোগী সোহেলের বিরুদ্ধে ছয়টি, আকবরের বিরুদ্ধে তিনটি ও সুজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত নয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত