পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ১১:৪১ পিএম

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম রোগকে সংক্ষেপে ‘পিসিওডি’ বলে। এই সমস্যা সাধারনত হরমোনের তারতম্যের কারণেই ঘটে। একটা বয়স অতিক্রম করার পর সব মেয়েরই ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসেই ডিম নির্গত হয়। পিসিওডি-র ক্ষেত্রে এই ডিম নির্গত হওয়ার নিয়মটি নির্দিষ্ট রীতি মেনে হয় না। কখনো অপরিণত ডিম, কখনো বা আংশিক সম্পূর্ণ ডিমে ভরে যায় ডিম্বাশয়। অপরিণত ডিমগুলো দেহ থেকে বার হতেও পারে না। এক সময় সেই ডিমগুলোই জমে সিস্টের আকার নেয়। যা দেখতে অনেকটা ছোট ছোট টিউমারের মতো। চিকিৎসকের মতে, দুটি ঋতুচক্রের মাঝে একটি ডিম্বাণু এসে হাজির হয় জরায়ুতে। কিন্তু ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে ডিম্বাণু সম্পূর্ণ হতে পারে না ও ডিম্বাশয় ছাড়িয়ে জরায়ুর দিকে এগোতেও পারে না। শুক্রাণু নিষিক্ত হওয়ার জন্য এসে পড়লেও উপযুক্ত ডিম সিস্টের ভিড়ে খুঁজেই পায় না। একটা সময়ের পর বিনষ্ট হয়ে যায়। ৬ মিলিলিটার পর্যন্ত ওজন হতে পারে এই সিস্টগুলোর। হরমোনের সমতা না থাকা, স্ট্রেস, ওবেসিটি, মূত্রনালির সংক্রমণ থেকেও হতে পারে ওভারিতে সিস্ট।

লক্ষণ

প্রথমেই পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়। পিরিয়ডের আগে স্তন ভারী ও ব্যথা হয়। কারও ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা খুব বেশি থাকে। পিরিয়ড অনিয়মিত হয় । আবার পিরিয়ড নিয়মিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। পেটে ব্যথা হলে অনেক সময ব্লাড ক্লটও নির্গত হয়। কারো কারো পেটে ক্রাম্প ধরে থাকে। চুল পড়া, শরীরে রোমবৃদ্ধি, ত্বকে ব্রণের সমস্যাও দেখা দেয়।

আক্রান্ত হওয়ার বয়স

সদ্য পিরিয়ড শুরুর পর মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিবাহিতদের সন্তান ধারণের সমস্যা, অনিয়মিত পিরিয়ড ও নানা জটিলতা থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে যাদের ওজন বেশি, খাওয়া নিয়ন্ত্রণহীন তাদেরও হতে পারে।

প্রতিকার

প্রথম থেকেই মেয়েদের গর্ভধারণে যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকে খেয়াল রেখে  চিকিৎসা করতে হয়। জীবনযাপন পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে  রোগ থেকে প্রতিকারে থাকা যায়। থাইরয়েড বা সুগার সমস্যা থাকলে প্রথমে তার সমাধান করতে হবে। হরমোনাল ট্যাবলেট, মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয় ।

প্রাথমিক স্তরে ক্লিটোরাল এনলার্জমেন্ট রোধ করাটাই চিকিৎসকদের কাজ হয়। এ ছাড়া এন্ড্রোজেনিক ওভার অ্যাকটিভিটি টেস্ট, হরমোনাল চিকিৎসা, লিপিড প্রোফাইলের স্তর সব কিছু দেখে চিকিৎসা করেন। তবে একটা বয়সের পর ওষুধে কাজ না হলে এন্ড্রোমেট্রিয়াল বায়োপসি করতে হয়। সাধারণত সার্জারির দরকার পড়ে না। তবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ল্যাপ্রোস্কোপিক ওভারিয়ান ড্রিলিং ট্রিটমেন্ট করতে হয়। সচেতনতা

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। স্ট্রেস দূরে রাখা, অন্তত ছ’-সাত ঘণ্টা ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, বাইরের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করলে এই রোগ প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যোগ, নানা অ্যাবডোমিনাল ব্যায়াম, জগিং, জোরে হাঁটা, অর্থাৎ যাতে পেটের মেদ ঝরে সে সব অভ্যাস করা। হরমোনাল কোন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা নেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত