পরিবেশ রক্ষা করে কারখানা নির্মাণ করুন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৩ এএম

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে শিল্প-কারখানা ও অন্য সব স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিটি শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন অন্য সব স্থাপনা, সবকিছু পরিবেশবান্ধব করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অন্যান্য চার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) ১০টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে সাতটিই বাংলাদেশে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার প্রতিটি ধাপে পরিবেশ বিবেচনায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বর্তমানে শিল্পনগরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা এবং কর্মসংস্থান হয়েছে আট লাখের অধিক লোকের।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি এবং কর্মসূচির ফলে বর্তমানে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৩৫ শতাংশ। দেশব্যাপী পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসার ঘটছে এবং নারীদের অংশগ্রহণ জোরদার হচ্ছে। এতে দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ আর্থসামাজিক অগ্রগতির সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে। এরই মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছি।’

বাংলাদেশ ৭৬৬টি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে সব নির্বাচনেই দেশের মানুষ আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, সমর্থন দিয়ে আসছে, আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের এই সমর্থনের ফলে আজকের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

শিল্পে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৪ সালে ঘোড়াশাল এবং পলাশে দুটি পুরনো ইউরিয়া সার কারখানার স্থলে পরিবেশবান্ধব নতুন ‘ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন (বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ টন) ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। প্রকল্পটিতে জাপান ও চীন সরকার ঋণসহায়তা প্রদান করায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১৯৫৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (ইপসিক) প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বিসিক নামে পরিচিত। বিসিককে শক্তিশালী করতে আজ আমরা তেজগাঁওয়ে বিসিকের বহুতল ভবন এবং মাদারীপুরে সম্প্রসারিত বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ উদ্বোধন করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল, তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযুক্ত জনশক্তি যাতে গড়ে উঠে তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। এ সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর আমরা আলোকিত করব। আমরা আজকে শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা ঠিক আমাদের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক। কিন্তু শিল্পায়নও আমাদের প্রয়োজন। এটি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৫ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ৪৫ হাজার ৩৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে ২০২টি দেশ বা অঞ্চলে ৭৬৬টি পণ্য রপ্তানি করতে পারছি।’ এ সময় ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় চীন ও জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে। খাদ্যের অভাব সৃষ্টি করেছে। তবে বাংলাদেশে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও নগদ অর্থ সহায়তার মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্থনীতির গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। তাই করোনার সময়েও আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জনটাকেও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত