নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। রোগীরা চিকিৎসার জন্য ভিড় করছে সেখানকার সরকারি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে। এই হাসপাতালে প্রতিদিন ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে আসছে ৩০০-৪০০ রোগী। কিন্তু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যথাযথ চিকিৎসাসেবা মিলছে না বলে বলে জানিয়েছেন একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা। সেখানে প্রতি পালায় (শিফটে) ৭-৮ জন নার্স দায়িত্বে থাকলেও তাদের বদলে চিকিৎসাসেবা দেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট বিক্রেতা আব্দুর রশিদ। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকলেও রোগীদের ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে দায় সারছেন তিনি। অন্যদিকে নার্সরা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করেন।
নার্সদের বদলে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকারও করেছেন টিকিট বিক্রেতা আব্দুর রশিদ। আর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলেছে, এই অনিয়মের বিষয়টি তাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে সেখানে আগের ১০টি শয্যার পাশাপাশি আরও ১০টি শয্যা যুক্ত করা হয়েছে। আব্দুর রশিদ এসব শয্যায় ঘুরে ঘুরে রোগীদের ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করছেন। অন্যদিকে চেয়ারে বসে গল্পগুজব করে অলস সময় পার করতে দেখা যায় ডিউটিরত একাধিক নার্সকে। তারা মাঝেমধ্যে উঠে রোগীদের কাছ থেকে ঘুরে ফের এসে বসে পড়েন চেয়ারে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজন। তাদেরই একজন সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আর্থিকভাবে সচ্ছল না যে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করাব। কোনো সমস্যা হলে এখানেই আসি চিকিৎসার জন্য। ভাইয়ের ডায়রিয়া হয়ে খারাপ অবস্থা। তাকে নিয়ে আসছি চিকিৎসা করাতে। আসার পর যেই ভাই ওনারে স্যালাইন দিল, ইনজেকশন পুশ করল, তাকে আমি আগে টিকিট বিক্রি করতে দেখতাম। নার্স থাকতে সে কেন চিকিৎসা করছে বুঝলাম না! এটা তো সাধারণ মানুষও বোঝে ইনজেকশন ঠিকমতো পুশ না করতে পারলে কত বড় ক্ষতি হতে পারে। তারপরও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এত দায়িত্বহীন কীভাবে হয়?’
সেবা চাইতে গিয়ে হাসপাতালের নার্সদের দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ারও অভিযোগ করেছেন একাধিক রোগীর স্বজন। অসুস্থ সহকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তৈরি পোশাককর্মী আব্দুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে চাকরি করা ইব্রাহিমের পেট খারাপ। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসছি। নার্সের সঙ্গে একটা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলাম। কথা শুরুর আগেই রাগ হয়ে তিনি আমাকে বলেন, “এখন কথা বলতে পারব না, সামনে যান।” সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এলেই খারাপ ব্যবহারের সম্মুখীন হওয়া লাগে।’ এ সময় পাশে থাকা এক রোগী এক নার্সের দিকে আঙুল ইশারা করে বলেন, ‘মাধুরি ম্যাডামের রাগ বেশি। সে আমাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করছে।’
যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রেতা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হাসপাতালে থেকে দেখে দেখে এসব কাজ (ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ) শিখেছি। হাসপাতালের সুইপারও চিকিৎসার এসব কাজ জানে। এখন এখানে চিকিৎসা দিচ্ছি, রোগী না থাকলে পরে আবার টিকিট বিক্রি করব।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস কে ফরহাদ বলেন, ‘নার্সরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেএমন একটি তথ্য আমি আগেও পেয়েছি। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলব।’
আর টিকিট বিক্রেতার চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নার্সের বদলে টিকিট বিক্রেতা চিকিৎসার কাজ করছেন এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
