ব্যাংক শাখার চাপ কমাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং

কর্মীদের বেতন পরিশোধ বেড়েছে তিনগুণ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১১:৫৯ পিএম

করোনা শুরুর পর থেকে পোশাককর্মীদের বেতন পরিশোধে অনেক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে এগিয়ে আসে। এতে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ টাকা বহনের খরচ কমে এসেছে, তেমনি অন্যদিকে কর্মীদের কাজ বন্ধ করে সারি ধরে দাঁড়িয়ে মজুরি নিতে হয় না বলে বাড়তি সময় কাজ করতে পারেন তারা। এসব কারণে কর্মীদের বেতন পরিশোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি বড় বড় গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের ঈদের আগে নগদ টাকা তুলতে ব্যাংকে এসে ভিড়ও করতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের ৭৩৩ কোটি টাকা বেতন পরিশোধ করে। সেই হিসেবে তিন বছরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যম বেতন পরিশোধ বেড়েছে ২৭৪ শতাংশ বা প্রায় তিনগুণ। 

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের আগে কর্মীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ টাকার প্রয়োজন পড়ে বেশি। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেতন দেওয়ার ফলে আগের মতো আর চাপ পড়ে না ব্যাংকে।

ঈদের আগে ব্যাংকে শেষ লেনদেনের সুযোগ থাকছে চলতি সপ্তাহে। আগামী ১ মে রবিবার বিশ্ব শ্রমিক দিবসে ব্যাংকসহ সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। ২ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের ছুটি। গার্মেন্টসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো বেতন-বোনাস দেওয়া হয়নি। শেষ সপ্তাহে এই লেনদেনের চাপ এসে পড়বে ব্যাংকে। তবে এখনো ব্যাংকে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। যে কারণে কলমানি মার্কেটে বড় ধরনের চাপ নাও পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে গত বৃহস্পতিবার নগদ টাকা ধার দেওয়া-নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। ওই সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস অর্থাৎ গত রবিবার কলমানি মার্কেটে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ কলমানি মার্কেটে সপ্তাহের শেষ দিকে চাপ কমে এসেছে।

তবে ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে বরাবরই লেনদেনের চাপ বাড়ে। সেই দিক দিয়ে চলতি সপ্তাহে কলমানি মার্কেটে নজর থাকবে ব্যাংকগুলোর। এই মার্কেটে উদ্বৃত্ত টাকা খাটিয়ে বাড়তি আয় করার সুযোগ পাবে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে কলমানি মার্কেটে এক দিনের জন্য টাকা ধার দিয়ে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ শতাংশের মতো সুদ পাচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য কমেছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ৮ দশমকি ৭৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি শেষে ১৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা আমানত ছিল ব্যাংকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমানত ছিল ১২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

কলমানির বাইরেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এবং স্পেশাল রেপোর মাধ্যমে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে অনেক ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় তারা উল্টো বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুক বন্ড নিলাম করে। ওইদিন পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের লক্ষ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড নিলাম করা হয়। কিন্তু নিলামে বন্ড কিনতে ব্যাংকগুলো নিয়ে এসেছিল ১২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বন্ডে বিনিয়োগের জন্য দেড়গুণ বেশি টাকা নিয়ে হাজির হয়েছিল ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকে তারল্য সংকট তেমন না থাকায় ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে একরকম নিরুত্তাপ সময় পার করবে ব্যাংকগুলো। অথচ আগে ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে লেনদেনের চাপ সামাল দিতে ঘর্মাক্ত সময় পার করতে হতো মতিঝিল এলাকার ব্যাংক শাখাগুলোকে। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন দেয়। সেই কারণে অনেক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধে এখন আর আগের মতো বেগ পেতে হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত