অটিজম নিয়ে দেশে জাতীয় সচেতনতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘অটিজম নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়কে সম্পৃক্ত করে দেশে জাতীয় সচেতনতা তৈরি করা গেছে। এটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় এচিভমেন্ট। অটিজম নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী অটিজম সচেতনতামূলক তৎপরতায় সম্পৃক্ত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের মাঝেও অটিজম নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক “স্টিগমা” ছিল, সেটি থেকেও আমরা মুক্ত হতে পেরেছি।’
গতকাল রবিবার ‘প্রাচীর পেরিয়ে, স্টিফেন শোর আত্মজীবনী ও অটিজম নিয়ে সায়মা ওয়াজেদের সাথে আড্ডা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা বলেন, ‘আমাদের অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে এবং সেই সীমাবদ্ধতাগুলোই একধরনের শক্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটাও অটিজম সচেতনতা আন্দোলনের একটি অর্জন।’
অটিজম নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অটিজম আমাদের সমাজেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ; জাতীয় পর্যায়ে এ ধরনের একটা সচেতনতা তৈরি করা গেছে। তাদের (অটিজম আক্রান্ত) আরও সুযোগ করে দেওয়া উচিত। তাদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত, এটা এখন সবাই বুঝতে পেরেছে।’
অটিজম কোনো একক দেশের সমস্যা নয় জানিয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশে, সব সমাজে অটিজম নিয়ে মানুষের মাঝে “স্টিগমাগুলো” একই ধরনের। তাই দেশকাল-পাত্রভেদে সব দেশেই অটিজম নিয়ে মানুষকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। আমরা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের পাশাপাশি দেশের সরকার ও নীতিনির্ধারকদেরও কিছু করার আছে। প্রাচীর ভেঙে সবাইকে সামনে আসতে হবে।’
ভার্চুয়াল ওই আলাপচারিতায় অটিজম নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক স্টিফেন মার্ক শোর। অনুষ্ঠানে তার লেখা ‘বিয়োন্ড দ্য ওয়াল’র বাংলা সংস্করণ ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অধ্যাপক স্টিফেন মার্ক শোর বই ‘বিয়োন্ড দ্য ওয়াল’-এর অনুবাদ করা হয় সূচনা ফাউন্ডেশন থেকে। বইটি রকমারি ডটকমসহ অন্যান্য স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অটিজম নিয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যেই অটিজম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতাকে রাখা হয়নি। সরকার অটিজম নিয়ে মাল্টি সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ নিয়েছে। ২০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অটিজম সচেতনতাবিষয়ক সরকারি তৎপরতায় সম্পৃক্ত এবং এটি নিয়ে আমাদের একটি জাতীয় কর্মকৌশল রয়েছে। এই কর্মকৌশল শুধু ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়, এটা প্রতিবন্ধীদের চাকরি ও অন্যান্য জীবনমুখী সমস্যার সমাধানের কথা বলা আছে।’
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এডেলফি ইউনিভার্সিটির স্পেশাল এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক মার্ক শোর জানান, বাবা-মা, বিশেষ করে মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি অটিজম নিয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাকে বিষয়বস্তু করে বইটি লিখেছেন। অটিজম আক্রান্তদের সহায়তা দেওয়ার জন্য বইটি লেখা।
ভার্চুয়াল আলোচনায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের ওপর জাতীয় সংসদে একটি কর্মশালা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেখানে ১০০ জন সাংসদ অংশ নেন। ওই কর্মশালায় সায়মা ওয়াজেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছিলেন। সায়মার নেতৃত্বে সূচনা ফাউন্ডেশন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, কার্যকর নীতি প্রণয়নের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারই উদ্যোগ ও নেতৃত্বে জাতিসংঘে অটিজম বিষয়ে বিশে^ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক রেজ্যুলেশনও গৃহীত হয়েছে। সায়মা বাংলাদেশে এএসডি বা অটিজম স্টেকট্রাম ডিজঅর্ডার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের (এনআইএমএইচ) সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ^ খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেইন পিয়ার্স বক্তব্য দেন।
