বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের কাছে সত্যি সত্যি বিক্রি হয়ে গেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে গত সোমবার যে সমঝোতা হয়েছে, তাতে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার বিক্রির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় টুইটার কিনে নিয়েছেন টেসলা সিইও। এর মধ্যে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার তার ব্যক্তিগত গ্যারান্টি। প্রশ্ন উঠছে, টুইটার কিনতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপুল এই অর্থ কীভাবে জোগাড় করলেন মাস্ক?
৫০ বছর বয়সী এ ধনকুবের টুইটার কিনতে ব্যাংকের অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন, ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে তার মালিকানাধীন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা থেকে। তবে বাকি অর্থ তিনি কীভাবে জোগান দেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। ইলন মাস্ক যে এই অর্থ জোগাড় করে ফেলবেন, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুসারে বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ২৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। তবে তার কাছে নগদ মাত্র ৩০০ কোটি ডলার এবং আরও কিছু তরল সম্পদ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের সামনে একটি রাস্তা হলো সমমনা বিনিয়োগকারীদের খুঁজে বের করা। অর্থাৎ, টুইটার কেনায় তারল্যের কিছু অংশ নতুন অথবা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে আসতে পারে। মাস্ক এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ধরনের কৌশল তার বিবেচনায় রয়েছে। টুইটার কিনতে প্রাথমিক প্রস্তাব উপস্থাপনের পরে তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আইনগতভাবে অনুমোদিত যত বেশি সম্ভব শেয়ারহোল্ডারকে ধরে রাখাই তার উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি কোম্পানিগুলোতে সাধারণত দুই হাজারের কম শেয়ারহোল্ডার থাকে, যার অর্থ-বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বেশিরভাগ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আর টুইটারের মালিক থাকবেন না। তবে মাস্কের সিদ্ধান্তে যদি বিশ্বাস থাকে, তাহলে টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসির মতো বড় শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অংশ ধরে রাখতে পারেন। টুইটারে বর্তমানে ডরসির শেয়ার প্রায় ১০০ কোটি ডলারের। সোমবার ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, ইলন মাস্ক তার তারল্য অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করছেন এবং সম্ভাব্য অন্য সহ-বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইলন মাস্ক যদি যথেষ্ট বিনিয়োগকারী জোগাড় করতে নাও পারেন, তবুও অনেকটা একাই এগিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি রয়েছে তার। এর কারণ, টেসলায় মাস্কের মহামূল্যবান শেয়ার। ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার ঋণ কভার করার পরেও টেসলায় মাস্কের আরও অন্তত ২ হাজার ১৬০ কোটি ডলারের শেয়ার থেকে যাবে। অর্থাৎ, টেসলার শেয়ার বিক্রি করেই টুইটারের কেনার প্রায় পুরো অর্থ জোগাড় করে ফেলতে পারেন এ ধনকুবের। অবশ্য সেক্ষেত্রে টেসলার শেয়ার দরের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
