স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা ব্যাখ্যা দিল টিআইবি

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:১৬ এএম

করোনাকালে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, প্রতিবেদনকে ‘সঠিক নয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত না করে বরং টিআইবি কর্র্তৃক চিহ্নিত ঘাটতিগুলোকে দূর করা এবং সুপারিশকৃত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই অতিমারী নিয়ন্ত্রণে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

টিআইবি আরও বলেছে, গবেষণার ফলাফল সঠিক নয় এমন অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই; বরং এই গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতিটি তথ্য ও বিশ্লেষণ বিজ্ঞানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ।

গত সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মহামারী মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খুবই স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে টিআইবি এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। টিআইবি অস্বচ্ছ কাজ করেছে।

এর আগে ১২ এপ্রিল টিআইবি ‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা, টিকা ক্রয় ও প্রদান এবং প্রণোদনা বিতরণে উদ্বেগজনক বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাব বিদ্যমান’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে করোনার টিকা ক্রয়, করোনার সেবা প্রদানসহ করোনাসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবায় অসামঞ্জস্য ও বৈষম্য তুলে ধরে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাল্টা বক্তব্যে টিআইবি বলেছে, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ গবেষণায় উল্লিখিত ফলাফলকে নিরপেক্ষ ও নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে গ্রহণ করে তাদের সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করবে, যেন কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগগুলো সফল হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার প্রেস ব্রিফিংয়ে টিকা বাবদ সরকারের ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়, প্রায় ২০ হাজার কোটি বলে উল্লেখ করেছেন; যা একদিকে তার আগের ঘোষণার সংশোধন এবং অন্যদিকে বাস্তবে টিআইবির বিশ্লেষণকেই যথার্থতা প্রদান করে। টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী টিকার ক্রয়মূল্য ও টিকা কার্যক্রমের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ১২,৯৯৩-১৬,৭২১ কোটি টাকা, যা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষিত ৪০ হাজার কোটির অর্ধেকের কম। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই খরচ আগে ৪০ হাজার কোটি টাকা প্রকাশ হয়েছিল বলেও মন্ত্রী সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে অনুদান হিসেবে যে টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে তার মূল্য যোগ করে তিনি মোট খরচ ৪০ হাজার কোটি উল্লেখ করেছিলেন। বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে পাওয়া টিকা বাবদ কোন যুক্তিতে ও কিসের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করা হলো এবং কোন যুক্তিতে তা খরচ হিসেবে বিবেচিত হলো তা বোধগম্য নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিকা ক্রয় ও বিতরণ বাবদ খরচের হিসাব আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানায়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, টিআইবির বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা বা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা, দেশের কোনো সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ইত্যাদি অভিযোগ আনার কোনো সুযোগ নেই। টিআইবির গবেষণার মূল উদ্দেশ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরিপের পদ্ধতি নিয়ে তোলা প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে টিআইবি। টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সঠিক তথ্য উঠে আসে না, এই অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিসংখ্যানবিজ্ঞানে টেলিফোন সাক্ষাৎকার একটি স্বীকৃত পদ্ধতি।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি দ্বিমত পোষণ করা বিষয়গুলোর ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত