করোনার কারণে আগের দুই বছর ঈদে তুলনামূলক কম মানুষ গ্রামে গেলেও এবার পরিস্থিতি হবে ভিন্ন। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার অনেক বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তা হলে সড়কপথে ঢাকা থেকে বের হওয়ার সবকটি রুটেই পড়বে বাড়তি চাপ। তীব্র যানজটে নাকাল হবে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও ঢাকা থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার হয়ে দক্ষিণবঙ্গ যেতে ঈদের কয়েক দিন চরম ভোগান্তি হতে পারে প্রায় এক কোটি মানুষের। ওইসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান উন্নয়নকাজ, সংযোগ সড়ক, চাঁদাবাজি ও সংশ্লিষ্ট রুটের ঘাটে ফেরিসহ পারাপারে নৌযান সংকট এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা জাগাচ্ছে। যদিও সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, ঈদযাত্রা ভোগান্তিহীন করতে সম্ভাব্য সব উদ্যোগই নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ও সেতু। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের চলমান উন্নয়নকাজে বাড়ানো হয়েছে গতি। তবে শেষ পর্যন্ত এসব উদ্যোগ কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। আর এ শঙ্কা মাথায় রেখেই এবার কেউ কেউ আগেভাগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। ঈদ আসতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও, এখনো ঈদের ছুটি শুরু না হলেও অনেকে ধরেছে গ্রামের পথ।
উল্লিখিত রুটগুলোতে কেমন হতে পারে এবারের ঈদযাত্রা দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা পাঠকদের দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সেই ধারণা।
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গ যাত্রা : কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের তিনটি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার। গত সোমবার দুপুরের দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এবং কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুর উত্তরবঙ্গ লেনও। ঈদের আগে এমন পদক্ষেপে উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা ১২ কিলোমিটারের চার লেনের সড়ক এখন দুই লেনে চলছে যানবাহন। বাকি দুই লেনে চলছে বিআরটি প্রকল্পের উন্নয়নকাজ। পুলিশের এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। আর ঈদের আগে এ সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এখন দুই লেনে দিয়ে বিপুল পরিমাণ যানবাহন কীভাবে ওই ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে তা নিয়ে চিন্তিত যানবাহনের মালিক, চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
তবে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তা, মহানগর ট্রাফিক পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ দুর্ভোগ কাটানো নানা উপায় নিয়ে কাজ করছেন। এতে রাস্তা সংস্কার, মেরামত লেন বাড়ানো এবং সড়কে তিন চাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ নানা পরিকল্পনার কথা ভাবছেন।
টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শন করে দেখা যায়, বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। তাদের কাজের কারণে বেশ কয়েকটি স্থানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কোথাও পিলার নির্মাণ, কোথাও উড়ালসড়কসহ নানা কর্মযজ্ঞ চলছে। একপাশ দিয়ে লেন তৈরির কাজও চলছে। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ভোগড়া পর্যন্ত করা হয়নি কার্পেটিং।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘করোনার কারণে গত বছর যাত্রীর চাপ কিছুটা কম থাকলেও এবার বেশি থাকবে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। বিআরটি, জেলা প্রশাসন, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ শ্রমিক-পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ইনহাউস এবং অন গ্রাউন্ডে একাধিক মিটিং করেছি।’
বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজের ৭৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। সড়কের যেসব স্থানে বেশি সমস্যা মনে হচ্ছে সেগুলো ঈদের আগেই সমাধান করা হবে। এখন ঈদযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা হবে। ঈদের আগেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে বলে আশা করছি।’
এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের নলকা সেতুর এক লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। চান্দাইকোনা সেতু আছে খোলার অপেক্ষায়। তারপরও গোলচত্বর, সয়দাবাদ মোড়, মুলিবাড়ি মোড়, কড্ডার মোড়, পাচিলা, ফুড ভিলেজের সামনের সেতু, ঘুড়কা, দাদপুর ও সাহেবগঞ্জ এ ৯ স্থানে যানজটের শঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। এসব স্থানের কোথাও সরু, কোথাও খানাখন্দ, কোথাও আবার উঁচু-নিচু। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ সমস্য ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। ফলে এ সড়কে আর যানজটের আশঙ্কা নেই।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবারও যানজট ঈদে ঘরমুখো মানুষের সঙ্গী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার নিয়ে এ শঙ্কা বাড়ছে। এ মহাসড়কে প্রত্যেক বছর ঈদ এলে প্রশাসন ঘোষণা দেয় যানজট নিরসনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পান না যাত্রীরা। আর এবারের ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা হতে পারে দাউদকান্দির বলদাখাল ইউটার্ন। সঙ্গে সড়ক সংস্কারকাজ, ট্রাফিক আইন অমান্য করে যত্রতত্র যাত্রী তোলা, ফুটপাত দখল করে দোকান, অবৈধ স্ট্যান্ড, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস চলাচলে দূরপাল্লার গাড়ির গতি কমে যাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। যদিও ২৭ এপ্রিল থেকে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকবে বলে জানান কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকার বলদাখাল, গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে এলোপাতাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা, সঙ্গে ফিটনেসবিহীন লোকাল মাইক্রোবাস ও অনুমোদনহীন ট্রাক্টর গৌরীপুর-হোমনা সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠা এবং মহাসড়ক থেকে নামার সময় সৃষ্ট যানজট ঈদে তীব্র আকার ধারণ করার শঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করছেন সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা।
যদিও মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ মো. ইউনুস আলী শিকদার দাবি করেন, স্কেলসহ প্রতিদিন প্রায় ১৭-১৮ হাজার যানবাহনের টোল ১০টি কাউন্টার থেকে আদায় করা হচ্ছে। ছুটির দিনে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের কারণে এর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। তারপরও আমাদের এখানে যানজটের কোনো ঝুঁকি নেই।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মূল ভোগান্তি কুমিল্লা হলেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ ভোগাতে পারে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের। সিদ্ধিরগঞ্জে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চাঁদা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধভাবে চলছে বিভিন্ন গণপরিবহন। থানা এলাকার দুটি পয়েন্টে চলছে কোটি টাকার নীরব চাঁদাবাজি। সড়ক দখল করে বাসস্ট্যান্ড করায় গাড়ি চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রভাবশালীরা পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা দিতে না পেরে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মহাসড়কে যানজটের সুযোগে ঘরমুখো যাত্রীরা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আতঙ্কে আছেন। এ পথে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেই আচমকা দিনদুপুরে সশস্ত্র ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্র ঘরমুখো মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয়। হরহামেশাই এ রুটে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট রোধ ও ছিনতাই-ডাকাতি ঠেকাতে ইতিমধ্যে পুলিশের বাড়তি টিম নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া যানজট ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি রোধ করতে সড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক : দেশের অন্যতম ব্যস্ততম দুই মহাসড়ক ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের রূপগঞ্জ উপজেলার অংশে ভোগান্তি রয়েই গেছে। এতে করে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। সাধারণ মানুষের কাছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যেন ভোগান্তির আরেক নাম। প্রতিদিন এ সড়ক দুটিতে হাজার হাজার দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করে। তবে মহাসড়কের রূপগঞ্জের অংশে সারা বছরই যানজট লেগেই থাকে। ঈদযাত্রায় সেই যানজট মানুষের চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়। যানজট নিরসনের জন্য ভুলতা এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ভুলতা ফ্লাইওভার। তবে তা কোনো কাজে আসছে না। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো অব্যাহত থাকায় এখনো কাটেনি যানজটের শঙ্কা।
এছাড়া সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে। এ মহাসড়কের ৫২ কিলোমিটার নরসিংদীর অংশ। আর নরসিংদীর মাধবদী, পাঁচদোনা ও ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডের যানজট এবারের ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে পারে।
ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড়ের যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর মধ্যে কোনো উৎসবের ছুটিতে এ যানজট চরম আকার ধারণ করে। দূরপাল্লার যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। আর ঈদে তা হয়ে উঠে আরও ভয়ংকর।
ঢাকা-দক্ষিণবঙ্গ : ঢাকা থেকে দক্ষিণের ২১ জেলায় যাওয়ার দুটি পথ। একটি ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ হয়ে মাওয়া (শিমুলিয়া) ঘাট হয়ে মাদারীপুর হয়ে বরিশাল-খুলনা অঞ্চল ও ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে খুলনা-বরিশাল। এ দুই পথে অন্যান্য এলাকার মতো সড়কে ঝামেলা না হলেও ভোগান্তি হয় ফেরি ও লঞ্চঘাটে। এবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি কম থাকায় এবং ওই রুটে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে স্বাভাবিকভাবেই বেশি চাপ পড়বে। এছাড়া দুই ঘাটে যত ফেরি চলাচল করার কথা তাও চলছে না।
রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া বাংলাদেশের অধিক ব্যবহৃত ঘাট যা ঢাকা ও এর আশপাশ জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চের প্রবেশ পথ হিসেবে পরিচিত। বহুল ব্যবহৃত এ ঘাট ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ ভোগান্তি যেন একে অপরের সঙ্গী। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নদী পার হতে ফেরিঘাটে আসা যাত্রীবাহী বাস, শত শত পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহযোগীদের তিন কিলোমিটার নদী পথ পাড়ি দিতে ক্ষেত্র হিসেবে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মতো। গেল এক মাস ধরে প্রতিদিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ রুটের যাত্রী ও চালকদের।
যাত্রীবাহী বাস ও কাঁচামালের ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করানো হলেও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নদী পার হতে আসা যাত্রীবাহী বাসের বাড়তি যে চাপ সৃষ্টি হবে তা সামলাতে ঘাট ও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কতটুকু প্রস্তুত তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। এ নৌরুট ব্যবহারকারীদের আসছে ঈদের আগমুহূর্তে ও ঈদ-পরবর্তী পাঁচটি কারণে পোহাতে হতে পারে ভোগান্তি। এর মধ্যে প্রধান কারণই হলো ফেরি সংকট।
বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বহরে থাকা ১৯ ফেরির মধ্যে সচল রয়েছে ১৭টি। এছাড়া ফেরিঘাটের পন্টুনের যে র্যাম রয়েছে তা অ্যাপ্রোচ সড়কের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি ঢালু হওয়ার জন্য আনলোড ও লোড বেশি সময় লাগছে, এতে করে মূল সড়কে যানবাহনে দীর্ঘসারি সৃষ্টি হচ্ছে।
