চলতি মাসের শুরুতে টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কেনেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এর তিন সপ্তাহ পরই টুইটারের সব শেয়ার ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কিনে কোম্পানিটির স্বত্বাধিকারী হওয়ার চুক্তিতে পৌঁছান তিনি। অতীতে টুইটারের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ করেছিলেন মাস্ক। সামাজিক মাধ্যমটির প্রধান হয়ে বাকস্বাধীনতার প্রতি কি তিনি শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারবেন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
অপ্রতিরোধ্য মাস্ক
ইলন মাস্ক। পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপ করতে ভালোবাসেন। সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার পছন্দ তার। এমন এক গাড়ি নির্মাণ করেছেন যাতে গ্যাসের দরকার পড়ে না, চালক না থাকলেও চলে। তার সামান্য অঙ্গুলি হেলনেই শেয়ারবাজার ওঠে অথবা নামে। তার প্রতিটি বাক্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে ভক্তরা। টুইটারে তার ফলোয়ারের সংখ্যা আট কোটির বেশি। বিশ্বের শীর্ষ এই ধনী ৫০ বছর বয়সেই পৃথিবী জয় করেছেন। তার দৃষ্টি এখন মঙ্গল গ্রহে। স্বপ্ন, পৃথিবীর পাশাপাশি মঙ্গল গ্রহও মানুষের বাসযোগ্য করা। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মহাকাশ কোম্পানি বোয়িংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ছাড়িয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। তার গাড়ি প্রতিষ্ঠান টেসলা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। টেসলার বর্তমান বাজার মূল্য এক লাখ কোটি ডলার।
আড়াইশো বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক মাস্ক। রোবট, সৌরশক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও জলবায়ু মাস্কের আগ্রহের বিষয়। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে ব্রেন-কম্পিউটার ইমপ্লান্ট নিয়েও ব্যাপক ঝোঁক তার। আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের ভেতর দিয়ে মানুষ ও মালামাল যাতে দ্রুত গতিতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে, তা নিয়েও কাজ করেছেন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিট অনেকটা মাস্কই নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্লুমবার্গের কলামিস্ট ম্যাট লেভাইন একবার বলেছিলেন, ‘পণ্যের মূল্য এখন নগদ প্রবাহের ওপর নির্ভর করে না, করে ইলন মাস্কের সঙ্গে পণ্যের নৈকট্যের ওপর। আর্থিক ব্যবস্থা এখন এভাবেই কাজ করে।’
জীবনের বড় একটা সময় নিন্দুকদের পেছনে ব্যয় করেছেন মাস্ক। তাদের প্রশ্ন জেরবার করেছে তাকে। অবশ্য গত বছর নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে অনেকটা সফল হয়েছেন মাস্ক। গত এপ্রিলে মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা চাঁদে মহাকাশচারী প্রেরণ-সংক্রান্ত বিশেষ চুক্তি করে। পরে অক্টোবর মাসে কার রেন্টাল জায়ান্ট হার্জ জানায়, টেসলার এক লাখ গাড়ি নিজেদের বহরে যুক্ত করবে তারা।
কয়েক বছর আগেও মাস্ককে নিয়ে হাসাহাসি করতেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিরা। সেই মাস্কের সামনে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান ও শিল্পমালিকরা মাথা নত করেন। মাস্কের দীর্ঘকালের বন্ধু অ্যান্টোনিও গ্রাসিয়াস বলেন, ‘খুব প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন মাস্ক। তা সত্ত্বেও অসামান্য মেধার অধিকারী তিনি।’ টেসলা ও স্পেসএক্স উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় পদে রয়েছেন অ্যান্টোানিও। বন্ধু মাস্ক সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘সে (মাস্ক) যে পরিবেশে বড় হয়েছে, ৯৯.৯৯ শতাংশ ছেলে সেই পরিবেশে বড় হলে তার ধারে-কাছে কিছু করতে পারত না। অপরিসীম চাপের মধ্যে থেকে মাস্ককে দিনের পর দিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। মানুষের অগ্রযাত্রা ভিন্ন খাতে নিতে তার অবদান অবিস্মরণীয়।’
টুইটারের মালিক
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ইলন মাস্ক প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হন। তাকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল অপরিসীম। কারণ নানা ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করে মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আবদ্ধ করতে ভালোবাসেন মাস্ক। সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছেন তিনি। অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের মালিক হতে যাচ্ছেন মাস্ক। টুইটার ও মাস্ক উভয়ই জানায়, টুইটার কেনার বিষয়ে তারা এক চুক্তিতে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে। টুইটারের পুরো শেয়ার কিনতে মাস্কের খরচ পড়ছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২১ দিনের মধ্যে টুইটারের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার থেকে এটির স্বত্বাধিকারী হওয়ার খবর পেলেন তার ভক্তরা। টুইটারের সঙ্গে চুক্তির পরপরই মাস্ক বলেন, ‘গণতন্ত্র সচল রাখতে বাকস্বাধীনতার বিকল্প নেই। আর টুইটার হচ্ছে এমনই এক শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে মানুষের ভবিষ্যৎ ঘিরে যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, সেসব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। টুইটারকে নতুন রূপ দিয়ে, মানুষের আস্থা বাড়াতে এটির অ্যালগরিদম উন্মুক্ত রেখে, স্প্যাম আটকে ও সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরতে টুইটারকে আগের চেয়ে আরও উন্নত করব আমি। সামাজিক এই প্ল্যাটফর্মটির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।’
উত্তেজনাপূর্ণ ২১ দিন
ঘটনার শুরু ৪ এপ্রিল। ওইদিন টুইটারের পক্ষ থেকে প্রথম জানানো হয়, কোম্পানিটির ৯.২ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছেন মাস্ক। টুইটারের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার থেকে তাকে ২৯০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। মাস্কের আগে কোনো একক ব্যক্তি এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির শেয়ার কেনেননি। ৯.২ শতাংশ শেয়ার কেনার পরদিনই টুইটার আবার বিশ্বকে চমকপ্রদ তথ্য দেয়। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক কোম্পানিটি জানায়, টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে মাস্ককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পরাগ আগারওয়াল এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে আমরা ইলন মাস্ককে নিয়োগ দিচ্ছি। এই বার্তা সবাইকে জানিয়ে রোমাঞ্চিত বোধ করছি। কয়েক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, আমাদের পরিচালনা পর্ষদে ইলন মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’
ওই টুইট বার্তার কয়েক দিন পর ১০ এপ্রিল সিইও পরাগ আগারওয়াল হঠাৎ জানান, মাস্ক টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন না। কোম্পানিটির কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে আগারওয়াল বলেন, ‘ইলন জানিয়েছেন, তিনি আমাদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হচ্ছেন না। শুধু আজ নয়, আগামী দিনেও আমরা আমাদের মূল্যবান শেয়ারহোল্ডারদের অবস্থানকে সম্মান জানাব। তারা আমাদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কি না তা বিবেচ্য বিষয় নয়। ইলন আমাদের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। তার মতামতকে সব সময় আমরা স্বাগত জানাব।’ এরপর ১৪ এপ্রিল মাস্ক টুইটারকে একটি প্রস্তাব দেন। তিনি নিজেই টুইট বার্তায় প্রস্তাবের বিষয়টি জানান। সেই প্রস্তাব আর কিছুই নয়- টুইটারের প্রতিটা শেয়ার ৫৪.২০ ডলারে কিনতে চান মার্কিন এই ধনকুবের। সে ক্ষেত্রে টুইটারকে কিনতে তার সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ৪ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। মাস্কের প্রস্তাবের ঠিক পরদিন ১৫ এপ্রিল টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সীমিত সময়ের শেয়ারহোল্ডার অধিকার নিয়ে পরিকল্পনা করছে। এর অর্থ মাস্কের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি তারা। কারণ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে মাস্ক টুইটার কিনতে পারবেন না। ২৫ এপ্রিল সোমবার সংবাদমাধ্যম জানায়, টুইটারকে মাস্কের কাছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে বিক্রি করতে রাজি হয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টুইটার বলে, ‘মাস্ক যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তার মূল্য, নিশ্চয়তা ও আর্থিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে গঠনমূলক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে টুইটার বোর্ড। প্রস্তাবিত আর্থিক লেনদেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ মাস্কের প্রস্তাব শুরুতে টুইটার প্রত্যাখ্যান করলেও এখন কোম্পানিটি তার শেয়ারহোল্ডারদের বলছে, মাস্কের সঙ্গে করা চুক্তি অনুমোদনের পক্ষে তারা যেন ভোট দেয়।
খুশি ডানপন্থিরা
কয়েক বছর ধরে কনটেন্ট নিয়ে রাজনীতিবিদ ও নিয়ন্ত্রকদের দিক থেকে চাপে রয়েছে টুইটার। ভুল তথ্যের বিষয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টার কারণে বেশ কয়েকবার সমালোচনার মুখে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। গত বছরের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার ঘটনার পর তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বেশ আলোচিত হয় টুইটার। সে সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহিংসতায় উসকানির ঝুঁকি থাকায় ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। টুইটারের ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করাকে বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখেন তিনি। অবশ্য কেবল ট্রাম্পের বেলাতেই নয়, টুইটারের কনটেন্ট মডারেটরদের বিভিন্ন সময়ে কনটেন্ট সেন্সরশিপের কড়া সমালোচনা করে আসছেন মাস্ক। বাকস্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান তার। ২৫ এপ্রিল মাস্কের টুইটার কেনার খবরের পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, ট্রাম্প এবার তার অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন, বাকস্বাধীনতার পক্ষে থাকা মাস্ক ওই অ্যাকাউন্ট আটকে রাখবেন না। ট্রাম্পের সমর্থক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, টুইটারে ফেরার ইচ্ছা তার নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল নিয়েই সন্তুষ্ট তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, ইলন টুইটার কিনছেন কারণ তিনি এটিকে আরও উন্নত করতে চান। তিনি ভালো মানুষ। তবে আমি আমার ট্রুথ সোশ্যালেই থাকতে চাই।’ ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না এ বিষয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি মাস্ক। এদিকে মাস্কের টুইটার কেনার খবরে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি মহল। হোয়াইট হাউজ অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে মুখপাত্র জেন সাকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘টুইটারের মালিক যেই হন না কেন, বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ক্ষমতার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।’ যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য জুলিয়ান নাইট ধনকুবের মাস্কের টুইটার অধিগ্রহণের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। টুইটার ক্রয়ের বিষয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে মাস্কের চুক্তিকে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জগতে বিস্ময়কর উন্নয়ন’ হিসেবে অভিহিত করেন নাইট। তিনি টুইট বার্তায় বলেন, ‘টুইটারের মালিকানা এখন এমন এক ব্যক্তির হাতে যাচ্ছে যিনি বাকস্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার। তার নেতৃত্বে ব্যক্তি মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার বৈশ্বিক পদক্ষেপে কেমন প্রতিক্রিয়া জানায়, তা দেখার বিষয়।’
ইলন মাস্কের টুইটার কেনার বিষয়ে বিশ্লেষক জেমস ক্লেটন বলেন, ‘মাস্ক এখন টুইটারের পুরোদস্তুর রাজা। তিনি নিজেই বলেছেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি কেনার পেছনে অর্থনীতি নয় বরং ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের বিষয় কাজ করেছে। কোম্পানিটি কেনার মধ্য দিয়ে মাস্ক এখন টুইটারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন। যেভাবে চান, তিনি সেভাবে টুইটারকে পরিচালিত করবেন। তিনি এরই মধ্যে জানিয়েছেন, টুইটারের অ্যালগরিদম প্রকাশ্যে আনা হবে যাতে করে টুইটার কীভাবে কাজ করে, তা ব্যবহারকারীরা ভালোমতো বুঝতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থিরা অভিযোগ করে আসছিলেন, টুইটার তাদের পছন্দ করে না। মাস্কের টুইটার কেনার খবরে স্বাভাবিকভাবেই দেশটির রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা খুশি।’
সমালোচনা
কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। বিশ্বের অন্য নামকরা ব্যক্তিদের মতো ধনকুবের ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে গুরুতর অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। বিশেষ করে তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি উদ্বেগজনক অভিযোগ ওঠে। এগুলোর মধ্যে যৌন হয়রানি ও বাজে কাজের পরিবেশ উল্লেখযোগ্য। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত টেসলাকে আদেশ দেয়, প্রতিষ্ঠানটির এক কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীকে যেন দ্রুত ১৩৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ওই কর্মীর সঙ্গে বর্ণবাদী ব্যবহার করা হলে অভিযোগ জানানোর পরও টেসলার সিইও মাস্ক কোনো ব্যবস্থা নেননি। কৃষ্ণাঙ্গ ওই কর্মী এরপর আইনের দ্বারস্থ হন। মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম বহুবার ভঙ্গ করে। এজন্য তাদের প্রচুর জরিমানা দেওয়া লাগে। এ ছাড়া দেশটিতে টেসলার অটোপাইলট সফটওয়্যার নিয়েও তদন্ত চলছে। পার্ক করা জরুরি যানবাহনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনায় জড়ায় ওই অটোপাইলট সফটওয়্যার। এতে হতাহতেরও ঘটনা ঘটে। মাস্কের সাবেক সহযোগীরা তাকে নিষ্ঠুর, খিটখিটে ও ক্ষুদ্র মানসিকতার ব্যক্তি হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে বা হতাশ হয়ে পড়লে মাস্কের এসব আচরণ বেশি প্রকাশ পায় বলে মনে করেন তারা। মাস্কের ভাই ও ব্যবসার অংশীদার কিমবেল মাস্ক বলেন, ‘ব্যবসায়িক বিষয়ে মাস্কের মতো পণ্ডিত দেখা যায় না। তবে তার এই পাণ্ডিত্য মানুষের প্রতি অনেক সময় সহানুভূতিশীল নয়।’ করোনাভাইরাস মহামারীকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে রাজি ছিলেন না মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক মানতেন না। করোনার উচ্চ সংক্রমণের সময় কারখানা খোলা রেখে সমালোচিত হন তিনি। করোনাপ্রতিরোধী টিকার কার্যকারিতা নিয়েও সন্দিহান ছিলেন মাস্ক। টুইটার চালাতে গিয়েও মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে কি না, কতটুকু সফলভাবে এটি তিনি পরিচালনা করতে পারবেন, বাকস্বাধীনতার প্রতি শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারবেন কি না বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার আগে আরও কোনো চমক আসবে কি না এসব নানা প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
